টাকা চুরির অপবাদ! বাঁকুড়ার সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে পরিচারককে বেধড়ক মার, দিদিকে শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাবের ভয়ঙ্কর অভিযোগ

টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ির পরিচারককে দফায় দফায় মারধর, এমনকি তাঁর দিদিকে শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থানার সাব ইন্সপেক্টর (SI) শুভম রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার রাতের পর শনিবারও রানিবাঁধের ক্ষুদিরাম স্ট্যাচু মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় মানুষজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে লাঠি, রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলে প্রবল বিক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখায় পুলিশ বাহিনী। এই অবরোধের ফলে বাঁকুড়া-ঝিলিমিলি ও বাঁকুড়া-বারিকুল সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, “রানিবাঁধ থানার মেজোবাবু (SI) হয়ে শুভম রায়চৌধুরী এমন ঘৃণ্য কাজ কী করে করতে পারেন, তার জবাব চাই! একটা ছেলেকে সারারাত ধরে মারধর করেছেন। এরপর মদ্যপান করে একটা মেয়ের শ্লীলতাহানি করেছেন ও কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা ওঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কী ঘটেছিল?

পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রানিবাঁধ থানার সাব ইন্সপেক্টর শুভম রায়চৌধুরী তাঁর বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পরিচারককে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু তাই নয়, মারধরের কথা বাইরে জানালে সার্ভিস রিভলবার দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন ওই পুলিশ আধিকারিক।

গ্রামবাসীদের দাবি, শুক্রবার ওই পুলিশ আধিকারিক পরিচারকের বাড়িতে গিয়ে বাক্স ভেঙে কিছু নগদ টাকা ও অলঙ্কার নিয়ে যান। বাধা দিতে গেলে পরিচারকের দিদিকে তিনি শ্লীলতাহানি করেন ও কুপ্রস্তাব দেন। জখম যুবকের দিদি এই প্রসঙ্গে বলেন, “ভাইকে থানা থেকে উলঙ্গ করে দৌড় করিয়ে আমাদের বাড়ির কাছে এনে জামা পরিয়ে দেন উনি। আমার মাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মেজোবাবু। আমার জামা ছিঁড়ে দেন, আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আমরা এই পুলিশ আধিকারিকের শাস্তি ও আমার শ্লীলতাহানির বিচার চাই।”

শুক্রবার রাতেও শুভম রায়চৌধুরী ফের ওই যুবককে নিজের ভাড়া বাড়িতে ডেকে অকথ্য নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। এরপরই অসুস্থ যুবককে রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হয় এবং রানিবাঁধ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকার মানুষজন ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তখন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না-হওয়ায় শনিবার সকালে ফের পথে নামেন এলাকার মানুষ।

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি ফোনে জানান, “ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য খাতড়ার এসডিপিওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একই ইস্যুতে এভাবে দফায় দফায় পথ অবরোধ মেনে নেওয়া হবে না। অবরোধকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”

বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ না করতে পারলে তাঁকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।