‘এসআইআর’ বন্ধ না হলে ‘গণতন্ত্রের বিপদ’! মৃত্যু ও আতঙ্কের জেরে কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার, এবার মতুয়া গড়ে পথে তৃণমূল সুপ্রিমো!

এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে এবার সরাসরি পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তড়িঘড়ি চাপানো এই পদ্ধতির কারণে একাধিক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) কাজের চাপে অসুস্থ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন, অন্যদিকে ভোটাররা ‘ডিটেনশন ক্যাম্পের’ ভয়ে দিশাহারা।

মতুয়া গড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি:

মঙ্গলবার মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমায় মুখ্যমন্ত্রী দিনভর কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। চাঁদপাড়া থেকে ঠাকুরনগর পর্যন্ত মিছিলের পর তিনি বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কে বড় জনসভা করবেন। তৃণমূলের দাবি, এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক বেশি থাকায় তাদের আশঙ্কা দূর করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। এর আগে মতুয়াদের অনশনও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে প্রত্যাহার করা হয়।

বিএলও-দের মৃত্যু ও ভোটারদের আতঙ্ক:

বাংলার শাসক দলের দাবি, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে উদ্বেগজনক খবর আসছে। আতঙ্কে বহু মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকলেই ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে—এই ভুল ধারণার শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

তৃণমূলের অভিযোগ, শুধু ভোটার নন, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও দীর্ঘক্ষণ বাড়ি বাড়ি ঘোরার চাপে কয়েকজন বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্যানুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতার কারণে একজন বিএলও’র মৃত্যু হয়েছে, এমনকি আরেকজন নিজেকে শেষ করার পথ বেছে নিয়েছেন।

কমিশনকে মমতার কড়া বার্তা:

পরিস্থিতির এই অবনতিকে ‘বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লেখেন। তাঁর অভিযোগ: “এসআইআর প্রক্রিয়াটি তড়িঘড়ি চাপিয়ে দেওয়ায় কেবল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, বরং প্রশাসনিক কাজ পঙ্গু হয়ে পড়েছে।” তিনি প্রশিক্ষণের ঘাটতি, নথিপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি এবং কর্মীদের ওপর চাপ—এই সমস্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত, অন্যথায় এর অভিঘাত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোর উপর পড়তে পারে।

বিজেপি’র পাল্টা দাবি:

এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে তৃণমূল, হেল্পডেস্ক চালুর পাশাপাশি পদযাত্রাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক। অন্যদিকে, বিজেপি এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এসআইআর একটি আইনানুগ ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া যা দেশজুড়েই হয়। বিজেপি উল্টে অভিযোগ করেছে, তৃণমূল রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ অসুস্থতার মৃত্যুকেও এসআইআর-এর সঙ্গে যুক্ত করে অযথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।