যাদবপুরে কড়া আদালত! সিসিটিভি-নিরাপত্তায় গাফিলতি, হাইকোর্টের তীব্র অসন্তোষ, রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ১ সপ্তাহে হলফনামা জমার নির্দেশ!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা প্রশ্ন এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অসন্তোষের মুখে পড়ল। সিসিটিভি বসানো, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ এবং নিরাপত্তা উন্নয়নের কাজে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়েছে যে, যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের সক্রিয়তা সন্তোষজনক নয় বলে আদালত মন্তব্য করেছে। কেন এতদিন পেরিয়েও নিরাপত্তা বৃদ্ধির কাজে চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি নেই, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের কাজ কতদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে, সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে রাজ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আগের নির্দেশ মেনে কাজের গতি কেন বাড়ানো হয়নি, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, নজরদারি উন্নয়নের জন্য রাজ্যের অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যেই ৬৭ লক্ষ টাকার বেশি বরাদ্দ করেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, হলফনামায় নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকলে আদালত আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বারবার ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষকমহল ও আদালতের উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। নতুন নির্দেশের পর রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এখন আদালতের কড়া নজরে।