গৌতম গম্ভীরের ‘বড় জয়’! লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিতরণের ফৌজদারি মামলা বাতিল করল হাইকোর্ট, তুঙ্গে বিতর্ক!

ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ও প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি মামলা বাতিল করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিচারপতি নীনা বনসাল কৃষ্ণা সংক্ষিপ্ত রায়ে বলেছেন, “কমপ্লেইন্ট কেস কোয়াশড।” এর মধ্য দিয়ে কোভিড-১৯ মহামারীর দ্বিতীয় তরঙ্গে লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ মজুত ও বিতরণের অভিযোগে চলা চার বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। যদিও বিস্তারিত রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ:

২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে যখন দেশের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ও ওষুধের তীব্র অভাব ছিল, তখন পূর্ব দিল্লির সাংসদ গৌতম গম্ভীর তার গৌতম গম্ভীর ফাউন্ডেশন (জিজিএফ) ও পরিবারের সদস্যদের (স্ত্রী নাতাশা গম্ভীর, মা সীমা গম্ভীর, সিইও অপরাজিতা সিং) সঙ্গে নিয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেন। তাঁরা ফ্যাবিফ্লু (রেমডেসিভির) সহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করে বিনামূল্যে বিতরণ করেছিলেন।

এই প্রচেষ্টার পরেই অভিযোগ ওঠে। দিল্লি সরকারের ড্রাগ কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট জুলাই মাসে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। অভিযোগ ছিল, গম্ভীর ও জিজিএফ ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের ধারা ১৮(সি) লঙ্ঘন করেছেন, যা লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিতরণকে নিষিদ্ধ করে। এই লঙ্ঘনের শাস্তি ধারা ২৭(বি)(দ্বিতীয়) অনুসারে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা।

আইনি লড়াই ও যুক্তি:

হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ ও ড্রাগ কন্ট্রোল তদন্ত শুরু করার পর গম্ভীরের নাম উঠে আসে। এরপর রোহিনি আদালত তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করে। এর বিরুদ্ধে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জিজিএফ ও গম্ভীর পরিবার হাইকোর্টে আবেদন জানায়।

তাদের যুক্তি ছিল—ওষুধগুলো বিক্রির জন্য নয়, বিনামূল্যে মানবিক সহায়তার জন্য বিতরণ করা হয়েছিল। মহামারীকালে যখন সরকারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, তখন স্বেচ্ছাসেবকরা যে মানবিকতার কাজ করেছিলেন, তাকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। গম্ভীরের আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাই বলেন, তাদের ক্লায়েন্ট লক্ষ লক্ষ মানুষকে সাহায্য করেছেন, যখন “সেই সময় সরকারও অক্ষম ছিল।”

চার বছর ধরে চলা এই মামলার জেরে ট্রায়াল কোর্টের কার্যক্রম স্থগিত ছিল। অবশেষে হাইকোর্টের এই সংক্ষিপ্ত রায় গৌতম গম্ভীর ও তার পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিল। হাইকোর্ট রায় বাতিলের মাধ্যমে মহামারীকালে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টাকে এক প্রকার নতুনভাবে আলোকিত করল, যা আইনভঙ্গ বনাম মানবিকতার বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।