আইনজীবীর চেম্বার থেকে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, পলাতক অভিযুক্ত শেখ মানোয়ার আলম হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার

গত ১৩ নভেম্বর কাকদ্বীপে এক আইনজীবীর চেম্বার থেকে আইন পাঠরতা এক তরুণীর (প্রথম বর্ষ) দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেখ মানোয়ার আলমকে অবশেষে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

ঘটনা ও তদন্ত:

মৃত ছাত্রীর নাম সোনিয়া হালদার (২১)। তাঁর বাড়ি কাকদ্বীপ বিধানসভার অন্তর্গত প্রতাপাদিত্য নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়া এলাকায়। সোনিয়ার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্ত আইনজীবী পলাতক ছিল। সোনিয়াকে খুন করা হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ আনে তাঁর পরিবার। এরপর সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে শেখ মানোয়ার আলমের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিশ জারি করে।

গ্রেফতারের প্রক্রিয়া:

পুলিশ সূত্রে খবর, সুন্দরবন জেলার পুলিশ তেলেঙ্গানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর তেলেঙ্গানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্ত আইনজীবীর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত আইনজীবীকে এখন ট্রানজিট রিমান্ডে কাকদ্বীপে নিয়ে আসা হচ্ছে। নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর কাকদ্বীপ থানার পুলিশ তাকে মহকুমা আদালতে পেশ করবে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া:

অভিযুক্তের গ্রেফতার প্রসঙ্গে সোনিয়া হালদারের বাবা অজয় হালদার বলেন,

“পুলিশ প্রশাসনের উপর আমার ভরসা ছিল। অবশেষে অভিযুক্ত আইনজীবী গ্রেফতার হয়েছে। আইনত ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়ার পুলিশ নেবে। আমরা চাই অভিযুক্ত আইনজীবীর যেন ফাঁসি হয়।”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আইনের ছাত্রী হওয়ার সুবাদেই সোনিয়া কাকদ্বীপ কোর্টের ওই আইনজীবীর কাছে প্র্যাকটিসের জন্য যেতেন। তরুণীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠি এবং পরিবারের দাবি অনুসারে, ওই আইনজীবীর সঙ্গে সোনিয়ার সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের জেরেই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।