ভারত ছেড়ে যাওয়ার পথে গানে গানে বিদায়! অন্ধ যুবকের কণ্ঠে আবেগের সুর, সীমান্তে ভিড়ের মাঝে নেমে এল নিস্তব্ধতা

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া স্বরূপনগরের বিথারী হাকিমপুর চেকপোস্টে যখন শত শত ‘অবৈধ’ বাংলাদেশি নাগরিক ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় করেছেন, সেই ভিড়ের মাঝে এক অন্য ছবি ধরা পড়ল। ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অন্ধ যুবক মেহেদী হাসান আহমেদ-এর কণ্ঠে আবেগময় বিদায়ের গান যেন সীমান্তের অস্থায়ী শিবিরে নিস্তব্ধতা নামিয়ে আনল।

দুই দশকের স্মৃতি:

মেহেদী মাত্র তিন বছর বয়সে চোখের চিকিৎসার জন্য সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে এসেছিলেন। গত প্রায় দুই দশক ধরে তিনি হুগলির ডানকুনিতে বড় হয়েছেন। এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি এবং মঞ্চের সঙ্গেই গড়ে উঠেছে তাঁর শিল্পীসত্ত্বা। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও, কণ্ঠের জাদুতে তিনি বহু অনুষ্ঠানে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তাই এই বিদায়ের মুহূর্তে গানই যেন তাঁর আবেগ প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠল। তাঁর গাওয়া করুণ সুরে ফুটে উঠল জীবনের দুই দশকের স্মৃতি, কষ্ট আর ভালবাসার গল্প।

সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা:

আইন মেনে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে মেহেদী অনড় হলেও, তাঁর কণ্ঠের কম্পনে ধরা পড়ছিল বুকের ভেতর চাপা কান্না। অস্থায়ী শিবিরের অপেক্ষমান মানুষরাও থমকে গিয়েছিলেন তাঁর গান শুনতে।

মেহেদী বলেন,

“অবৈধভাবে থাকা ঠিক নয়। সরকার সুযোগ দিচ্ছে, তাই ফিরে যাচ্ছি।”

তাঁর গলায় ছিল না কোনও বিদ্বেষ, ছিল শুধু কৃতজ্ঞতা ও স্মৃতির ভার। গান গেয়েই যেন তিনি ভারত থেকে বিদায়ের মুহূর্তটিকে ধরে রাখতে চাইলেন, কারণ গানই তাঁর শক্তি, পরিচয় এবং অস্তিত্ব।