জম্মুর ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর অফিসে পুলিশের বড় তল্লাশি, AK-47 কার্তুজ ও হ্যান্ড গ্রেনেড পিন উদ্ধার, মামলা দায়ের

জম্মুতে অবস্থিত, প্রাচীন ইংরেজি দৈনিক ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর অফিসে বৃহস্পতিবার জোর তল্লাশি চালাল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের রাজ্য তদন্ত সংস্থা (SIA)। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক:

একাধিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন কাশ্মীর টাইমস-এর অফিস থেকে ১৪টি AK-47 কার্তুজ, একটি পিস্তল এবং তিনটি হ্যান্ড গ্রেনেড পিন উদ্ধার করা হয়েছে। এই উদ্ধারকার্যকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অভিযোগ:

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, তারা অনুরাধা ভাসিনের মালিকানাধীন এই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকা, দেশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ানোর চেষ্টা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া:

উপ-মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি: জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে মিডিয়াকে লক্ষ্যবস্তু না করার জন্য আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যম চতুর্থ স্তম্ভ, এবং এদের সাংবাদিকতা অনুশীলনের জন্য জায়গা পাওয়া উচিত। যদি তারা কোনও ভুল করে থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে কেবল চাপ তৈরি করার জন্য নয়।”

পিডিপি-র সমালোচনা: যুব জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান আদিত্য গুপ্তও এই অভিযানের সমালোচনা করে কাশ্মীর টাইমসকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের “সবচেয়ে সাহসী কণ্ঠস্বর” বলে উল্লেখ করেছেন।

‘কাশ্মীর টাইমস’-এর প্রতিক্রিয়া:

কাশ্মীর টাইমস-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তল্লাশি অভিযানের কড়া নিন্দা করেছে। এক যৌথ বিবৃতিতে সম্পাদক প্রবোধ জামওয়াল এবং অনুরাধা ভাসিন এটিকে ‘একটি স্বাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে দমন করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা জম্মু অফিসে এই অভিযানকে “রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ভিত্তিহীন অভিযোগ” এবং “আমাদের নীরব করার আরেকটি প্রচেষ্টা” বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে বেদ ভাসিনের হাতে শুরু হওয়া এই সংবাদপত্রটি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাচীনতম ইংরেজি ভাষার দৈনিক। এর আগে, ২০২০ সালের অক্টোবরে শ্রীনগর অফিস সিল করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।