বর্ধমান রাজ আমলে শূলি পুকুরে চড়ানো হতো দস্যুদের? মৃত্যুর ইতিহাস মুছে জলাশয়ের নাম এখন ‘জীবন সায়র’

বর্ধমান রাজবাড়ির কাছেই অবস্থিত এক শান্ত জলাশয়, যা বর্তমানে ‘জীবন সায়র’ নামে পরিচিত। কিন্তু এর নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক শিহরণ জাগানো অতীত। লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এই পুকুরের ইতিহাস মৃত্যু ও কঠোর শাস্তির সঙ্গে জড়িত।
শূলি পুকুরের রোমহর্ষক কাহিনি:
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, বর্ধমান রাজ আমলে অপরাধ দমনের জন্য কঠোর ব্যবস্থা ছিল। শোনা যায়, দস্যুবৃত্তির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে রাজবাড়ির অদূরেই তৈরি করা হয়েছিল একটি শূল, আর তাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় এই পুষ্করিণী। এই কারণে স্থানীয়দের কাছে জলাশয়টি ‘শূলি পুকুর’ নামেই পরিচিত ছিল।
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ জানান, কবে বা কোন রাজার আমলে এই পুকুর প্রতিষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে ১৯৭০-এর দশকেও পুকুরের মাঝে সেই শূলটি দেখা যেত বলে জানা যায়। তবে তাঁর মত, এই পুকুরে যে কাউকে শূলে চড়ানো হয়েছিল, এমন কোনো ঐতিহাসিক নথি মেলে না। বরং মানুষকে অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে এবং অপরাধ থেকে দূরে রাখতেই এই শূলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকতে পারে।
মৃত্যুর নাম বদলে ‘জীবন’:
দীর্ঘ কয়েক বছর পর, ২০২১ সালের ৩০ জুলাই বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদ (BDA)-এর উদ্যোগে পুকুরের নাম পরিবর্তন করা হয়। তৎকালীন বিডিএ চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় নবরূপে সাজিয়ে তোলা এই জলাশয়ের নতুন নামকরণ করেন ‘জীবন সায়র’। ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ জানান, রাজ আমলে এই পুকুরের পাড়ে ঘোড়ার আস্তাবল ছিল এবং ঘোড়ারা এখানে জল পান করত। জল অর্থাৎ জীবন, তাই শূলিপুকুর নাম পরিবর্তন করে ‘জীবন সায়র’ রাখা হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজতন্ত্রের বিভীষিকা মুছে গেলেও, আজও এলাকাবাসীর কাছে এই পুকুর ‘শূলিপুকুর’ নামেই পরিচিত। যদিও সৌন্দর্যায়নের পর বর্তমানে এই পুকুরপাড়ের বেহাল দশা। পুকুরের চারিদিকে প্লাস্টিক ও আবর্জনার স্তূপ জমেছে।