স্কুলের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা! সুইসাইড নোটে ৩ শিক্ষকের নাম লিখল দশম শ্রেণির ছাত্র

দিল্লির একটি নামী বেসরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র শৌর্য পাটেলের (Shourya Patil) মর্মান্তিক মৃত্যু স্কুল পরিবেশ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আচরণ নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। পরিবারের অভিযোগ, মাত্র ১৬ বছরের শৌর্য দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে অপমান ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছিল। এই ধারাবাহিক হেনস্থাই তাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
মঙ্গলবার রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ঝাঁপ দেন শৌর্য। পুলিশ তাঁর স্কুলব্যাগ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে তিনজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে শৌর্য লিখেছিল—“ওরা আমাকে বারবার হেনস্থা করেছে।”
মৃত্যুর দিন যা ঘটেছিল:
শৌর্যের বাবা প্রদীপ পাটেল জানান, ঘটনার দিন স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল চলছিল। নাচের অনুশীলনের সময় শৌর্য হঠাৎ পড়ে গেলে সে কান্না শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, তখন শিক্ষকরা তাকে রিহার্সাল থেকে বাদ দেন এবং তাকে বলেন যে সে ইচ্ছে করে পড়েছে ও অভিনয় করছে। এক শিক্ষক তো সরাসরি বলেন, “যত খুশি কাঁদো, আমার কিছু যায় আসে না।” এমনকি প্রিন্সিপাল উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি করেছে পরিবার।
দীর্ঘদিনের হেনস্থার অভিযোগ:
প্রদীপবাবু অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের ছেলে বাড়িতে এসে স্কুলে অপমানের কথা বলত। কিন্তু প্রতিবার স্কুলে অভিযোগ জানাতে গেলে শিক্ষকরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। উল্টে বলা হত, শৌর্যের পড়ায় মন নেই বলে নম্বর কমছে। প্রদীপবাবুর কথায়, “ওর বয়সে মনোযোগ নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। তাই বলে কোনও শিশুকে সবার সামনে অপমান করা যায় না।” তাঁর অভিযোগ, মৃত্যুর আগের চার দিন ধরে একজন শিক্ষক শৌর্যকে অভিভাবককে নালিশ ও ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এমনকি একদিন ধাক্কাও দেন।
সাধারণত ড্রাইভারের সঙ্গে বাড়ি ফিরলেও, ঘটনার দিন শৌর্য স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে একাই বেরিয়ে যায় এবং মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে আত্মহত্যা করে।
সুইসাইড নোটে শৌর্য লিখেছে, “আমার বাবা-মা আমার জন্য অনেক করেছেন, আমি তাঁদের কিছুই দিতে পারলাম না… আমার পর যেন আর কোনও বাচ্চা এমন সিদ্ধান্ত না নেয়।” শেষ দিকে সে অঙ্গদানের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে। এই ঘটনায় স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে শৌর্যের পরিবার।