AI-কে অন্ধ বিশ্বাস করলে বিপদে পড়তে পারেন, জেনেনিন কেন?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা জেনারেটিভ এআই যতই দ্রুত এবং উন্নত হোক না কেন, তাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক—এই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন গুগল-এর মূল সংস্থা অ্যালফাবেট-এর সিইও সুন্দর পিচাই। তার মতে, চকচকে প্রযুক্তির আড়ালে এখনও ভুল করার ব্যাপক সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।
পিচাইয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তথ্য এবং দ্রুত সমাধানের জন্য গুগল ও ওপেনএআই-এর মতো সংস্থার এআই মডেলগুলির ওপর নির্ভরশীল।
কেন ভুল করে এআই?
পিচাইয়ের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গুগল তাদের তথ্যের জন্য বহু স্তরের যাচাই-বাছাই করে, কিন্তু জেনারেটিভ এআই এখনো ভুল করার সম্ভাবনা রাখে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এআই যা বলছে তা যাচাই না করে গ্রহণ করলে ব্যবহারকারীকে ঠকতে হবে।
-
‘হ্যালুসিনেশন’: এআই তার শেখা ডেটার ওপর ভিত্তি করে উত্তর তৈরি করে। তথ্য না থাকলে এটি অনেক সময় অনুমান করে ভুল তথ্য বানিয়ে দিতে পারে, যাকে প্রযুক্তির ভাষায় ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়।
-
ব্যবহারকারীকে খুশি করা: অনেক সময় এটি সত্যতা যাচাই না করে এমনভাবে উত্তর দেয় যাতে ব্যবহারকারী খুশি হয়।
-
আপডেট না থাকা ডেটা: ডেটা বা তথ্যের অভাব, আপডেটের সমস্যা কিংবা ভাষাগত ও আঞ্চলিক তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণেও এআই ভুল তথ্য দিতে পারে।
পিচাইয়ের মতে, এআই লেখালেখি বা আইডিয়া তৈরিতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু একে কখনোই চূড়ান্ত তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের ক্ষোভ: দায় কেন ব্যবহারকারীর?
পিচাইয়ের এই সতর্কবার্তার পরেই প্রযুক্তি ও নীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের মূল প্রশ্ন: গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের উচিত এআইকে আরও নিখুঁত করা, ব্যবহারকারীকে বারবার ‘নিজে যাচাই করুন’ বলে দায় এড়ানো নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, গুগল, মাইক্রোসফট বা ওপেনএআই-এর মতো সংস্থাগুলির এআই-এ ভুল হলে তার প্রভাব চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি, কিংবা সংবাদ পরিবেশনে বিপর্যয় তৈরি করতে পারে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, এটা ঠিক যেন গাড়ি কোম্পানি নিজেই বলছে, ‘গাড়ি ভালো, তবে ব্রেক নাও ধরতে পারে—সতর্ক থাকবেন!’
ফিরে আসছে মৌলিক প্রশ্ন
পিচাইয়ের বক্তব্য সাধারণ ব্যবহারকারীর মনেও প্রশ্ন জাগাচ্ছে: ১. এতদিন ধরে নেওয়া হতো গুগল সবচেয়ে নির্ভুল তথ্য দেয়, এখন কেন এই সতর্কবার্তা? ২. এআই কি তাহলে সত্যিই নির্ভরযোগ্য নয়? ৩. প্রযুক্তির কারণে মানুষের যাচাই-বাছাই ক্ষমতা কি হারিয়ে যাবে?
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সব সময়ই মানুষের হাতে। সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, আইন বা টাকা-পয়সার ক্ষেত্রে এআই-এর দেওয়া তথ্য অবশ্যই বিশ্বস্ত সূত্রে যাচাই করতে হবে।