‘আব বাঙ্গাল কি বারি হ্যায়’, বিহারের পর বাংলা জয়ের লক্ষ্যে ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের’ আহ্বান শুভেন্দু অধিকারীর

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ জয়ের জন্য ‘সংখ্যালঘু’ ভোটের দিকে নজর দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বীরভূমের কীর্ণাহার থেকে রাষ্ট্রবাদী মুসলমানদের জোটবদ্ধ হয়ে বাংলায় সরকার বদলের আহ্বানে তিনি সেই ইঙ্গিতই দিলেন।
রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের বার্তা: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিজেপির ‘একতা যাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পথসভার শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আব বাঙ্গাল কি বারি হ্যায় (এবার বাংলার পালা)।” তাঁর বার্তাটি ছিল সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে:
আহ্বান: “শিক্ষিত রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরাও বিহারে এগিয়ে এসেছে মোদিজি-কে সমর্থন করতে। তাই বাংলায় আওয়াজ তুলুন ‘নো ভোট টু মমতা’। এখানকার রাষ্ট্রবাদী মুসলিম যাঁরা আছেন, যাঁরা বোমা বাঁধেন না-বলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা আসুন, মোদিজি-র বিকাশবাদে যোগ দিন। একজোট হয়ে তৃণমূল তাড়ানোর সময় এসেছে।”
CAA/SIR-এর অভয়: তিনি আরও বলেন, “এসআইআর-এ (SIR) ভারতীয় মুসলমানদের কোনও চিন্তা নেই। তাঁরা আমাদের ভোট না-দিলেও, আমরা চাই তাঁদের নাম থাকুক। কারণ, তাঁরা ভারতীয়। কিন্তু, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাদ যাবে।”
শুভেন্দুর হঠাৎ সংখ্যালঘু ভোটকে কাছে টানার এই কৌশল রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে: তবে কি বিজেপি অনুমান করতে পেরেছে যে, এই রাজ্যে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে হলে সংখ্যালঘু ভোটও জরুরি?
কেষ্ট ও কাজলের প্রতি কটাক্ষ: পথসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী অনুব্রত মণ্ডল এবং বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখকেও রীতিমতো তুলোধনা করেন। তিনি বলেন, “কেষ্ট মণ্ডল আর কাজল শেখ কি বিহারের শাহাবুদ্দিনের থেকে বড় গুন্ডা নাকি! অপেক্ষা করুন, আমি বোলপুর, নানুর ও কেতুগ্রামের দায়িত্বে। বারবার আসব, দেখা হবে। আমি অসুখও জানি, ওষুধও জানি।”
‘চোর’ স্লোগানে শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া: এদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে ‘চোর-চোর’ স্লোগান ও কালো পতাকা দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে শুভেন্দু কটাক্ষ করেন, ‘হাতি চলে বাজার, কুত্তে ভঁওকে হাজার’। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও নিশানা করে বলেন, “মহুয়া মৈত্র ভেনিটি ব্যাগ পেয়ে প্রশ্ন করেছিল সবাই জানে। কুকুর চুরি করেছে সবাই জানে। লোকসভার পাসওয়ার্ড বিদেশে পাচার করেছে তাও সবাই জানে।”