হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করা যাবে পরিচয় লুকিয়ে, জেনেনিন কী সেই পদ্ধতি?

মেটা (Meta) এবার WhatsApp ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) আরও শক্তিশালী করতে যুক্ত করছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিচার— ‘ইউজারনেম’ (Username)। এতদিন হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে ফোন নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এই নতুন ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের আসল নাম ও নম্বর গোপন রেখেও যে কারও সঙ্গে সুরক্ষিতভাবে চ্যাট করতে পারবেন।
অর্থাৎ, অচেনা বা অপরিচিত কারও কাছে নিজের ব্যক্তিগত নম্বর না দেখিয়েও নিরাপদে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
কীভাবে কাজ করবে ইউজারনেম?
ফিচারটি চালু করলে অপরিচিত কেউ আপনার নম্বর বা নাম দেখতে পাবে না। বরং দেখবে একটি ইউনিক হ্যান্ডল বা ইউজারনেম, যা দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
-
সুরক্ষার অতিরিক্ত স্তর: এই ইউজারনেম ফিচারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘পিন’ (PIN) বা চার অঙ্কের একটি পার্সোনাল কোড।
-
যদি কোনো ইউজার ‘ইউজারনেম + পিন’ সুরক্ষা চালু করে রাখেন, তবে শুধু ইউজারনেম জানলেই কেউ আপনাকে মেসেজ পাঠাতে পারবে না; সেই পিনটিও জানতে হবে।
-
এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ, স্প্যাম বা অপরিচিত ব্যক্তির বিরক্তিকর ইনবক্সে ঢোকার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ করে যারা পেশাগত কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন কিন্তু ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশ করতে চান না, তাদের জন্য এটি হবে বড় সুবিধা।
ইউজারনেম নির্বাচনের নিয়মাবলী
নতুন ফিচারে থাকবে ‘রিজার্ভ ইউজারনেম’ অপশন। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দসই ইউজারনেম আগেই লক করে রাখতে পারবেন।
-
ইউজারনেম অবশ্যই ৩ থেকে ৩০ ক্যারেক্টারের মধ্যে হতে হবে।
-
নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন ছাড়া ডোমেইন-স্টাইল বা অস্বাভাবিক ফরম্যাট ব্যবহার করা যাবে না।
-
ইউজারনেম পরিবর্তন করলে হোয়াটসঅ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নোটিফিকেশন পাঠাবে, যা স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।
সাইবার অপরাধ কমাতে বাড়তি সুরক্ষা
প্রাইভেসি বাড়াতে হোয়াটসঅ্যাপ আরও একটি সুবিধা যোগ করছে: বাইরের কোনো ওয়েবসাইট বা ওয়েব-লিংক থেকে আসা সন্দেহজনক মেসেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করা হবে। এতে ফিশিং, স্প্যাম, স্ক্যামসহ ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। এর মূল লক্ষ্য হলো সাইবার অপরাধ কমানো এবং ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ব্যবহারকারীরা চাইলে তিনটি স্তরে প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন— শুধু ইউজারনেম, ইউজারনেম+পিন অথবা প্রচলিত ফোন নম্বর ভিত্তিক যোগাযোগ। তবে, যারা আগে থেকেই আপনার নম্বর সেভ করে রেখেছেন, তারা আগের মতোই মেসেজ করতে পারবেন। ফলে এই ফিচার মূলত নতুন যোগাযোগকারীদের জন্য পরিচয় লুকিয়ে রাখার সুযোগ দেবে।
বর্তমানে এই ফিচারটি হোয়াটসঅ্যাপের বিটা ভার্সনে দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরেই এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের ‘প্রাইভেসি শিল্ড’ হিসেবে কাজ করবে এবং নম্বর শেয়ার না করেও চ্যাট করার এক নতুন যুগ শুরু হবে।