‘সুসংবাদ শুনতে পাবেন’, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল

কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ভারত-আমেরিকা (India-America) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনালেন। মঙ্গলবার ইন্দো–আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত ইন্দো–ইউএস ইকোনমিক সামিটে তিনি বলেন, “চুক্তি যখন ন্যায়সঙ্গত, ভারসাম্যপূর্ণ ও দু’পক্ষের জন্য লাভজনক হবে, তখনই সুসংবাদ শুনতে পাবেন।”

গোয়েল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো অবস্থাতেই দেশের স্বার্থ, বিশেষত কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থকে হেলাফেলা করে চুক্তিতে সই করা হবে না। তাঁর দাবি, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত এই চুক্তি নিয়ে মার্চ মাস থেকে আলোচনা চলছে এবং এ পর্যন্ত ছ’দফা বৈঠক হয়েছে।

সম্পর্ক ও বড় চুক্তি: দু’দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের প্রসঙ্গে রসিকতা করে মন্ত্রী বলেন, “পরিবারে তো ছোটখাটো মতান্তর হতেই পারে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত–মার্কিন সম্পর্ক বহুমাত্রিক, দীর্ঘমেয়াদি এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এতে কোনো বিরতি বা অস্বস্তি নেই। এ দিন তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের প্রতি বছর ২.২ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি চুক্তিটি বহু বছরের জন্য হতে পারে, যা বাণিজ্য বাড়ানোর প্রতি দু’দেশের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।

চুক্তি এবং আমেরিকার চাপ: ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক চাপে রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আমদানি শুল্কে আরও ২৫ শতাংশ বাড়তি চাপ যুক্ত হয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো— ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানো। আমেরিকার মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতে বাদাম, আপেল, ইথানল ও জিনগত পরিবর্তিত কৃষিজাত পণ্যের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার।

প্রসঙ্গত, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে টানা চতুর্থবার ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যসঙ্গী হয়েছে আমেরিকা, যেখানে দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩১.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।