রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সক্রিয় হতো ‘উলফ প্যাক’ WhatsApp গ্রুপ! নারী জঙ্গিদের নিয়ে ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক চালাত ডঃ শাহীন!

দিল্লি বোমা হামলা মামলায় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এই চক্রের নেপথ্যে থাকা আত্মঘাতী হামলাকারী ড. উমর উন নবী এবং ড. শাহীন সহ চারজন মূল হোতার পরিচয় এখন সামনে আসছে। এদের মধ্যে কেউ হামলার জন্য গাড়ি সরবরাহ করেছিল, কেউ সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলেছিল, আর উমর উন নবী আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে কাজ করেছিল। উমর উন নবী-র আত্মঘাতী হামলার আগেকার একটি ভিডিও-ও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে সে এটিকে ইসলামে ‘জায়েজ’ (বৈধ) বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।

ড. উমর উন নবী: আত্মঘাতী ‘শু বম্বার’

 

আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (Faculty Member) ড. উমর উন নবী-র প্রধান ভূমিকা ছিল আত্মঘাতী হামলাটি কার্যকর করা। হামলার জন্য সংগ্রহ করা ৩০ লক্ষ টাকাও তাকেই দেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গীরা গ্রেফতার হওয়ার পর সে ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে দিল্লিতে আসে এবং লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে নিজের গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটায়। তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, উমর একজন ‘শু বম্বার’ (Shoe Bomber) ছিল। অর্থাৎ, তার জুতোয় বোমা ফিট করা ছিল, যার মাধ্যমে গাড়ির ভেতরে রাখা মূল বিস্ফোরকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ড. শাহীন: কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের প্রধান

 

আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক ড. শাহীন ছিলেন পুরো জঙ্গি নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগের মূল কেন্দ্র। সে ‘উলফ প্যাক’ (Wolf Pack) নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করেছিল, যা কেবল রাত ১১টা থেকে ২টার মধ্যে সক্রিয় থাকত। এই গ্রুপে শাহীন-এর সাংকেতিক নাম ছিল ‘আলফা’ (Alpha), এবং অন্যান্য জঙ্গিরাও এমন ছদ্মনাম ব্যবহার করত। জানা গেছে, ড. শাহীনের এই গ্রুপের সঙ্গে বেশ কিছু মহিলারও যুক্ত থাকার খবর মিলেছে। ড. শাহীন, ড. মুজাম্মিল, উমর এবং আদিল আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর বিল্ডিংয়ের ১৩ নম্বর ঘরে গোপন বৈঠকও করত।

আমির রাশিদ আলি: হামলার জন্য গাড়ির যোগানদার

 

দিল্লি বিস্ফোরণে আমির রাশিদ আলির ভূমিকা ছিল গাড়ি সরবরাহ করা। জম্মু ও কাশ্মীরের পাম্পোরের বাসিন্দা আমিরই আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহৃত i20 গাড়িটি উমরকে দিয়েছিল। সে দিল্লিতে নিজের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উমরের জন্য গাড়িটি কেনে। হামলার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।

জাসির বিলাল ওয়ানি: ড্রোন হামলায় বিশেষজ্ঞ

 

এনআইএ (NIA) ড্রোন হামলায় দক্ষ জাসির বিলাল ওয়ানি ওরফে দানিশ-কেও গ্রেপ্তার করেছে। দানিশ ড্রোন এবং রকেট তৈরির বিশেষজ্ঞ ছিল এবং সে ভারতে হামাস-এর মতো হামলা করার জন্য জইশ-ই-মুহাম্মদের (Jaish-e-Mohammed) ষড়যন্ত্রের অংশীদার ছিল। সে উমর এবং আদিলের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল।