তেজস্বীকে টার্গেট করে ভাই তেজ প্রতাপের হুঙ্কার! ব্যর্থতার দায় কার? দলের ঐক্যের বার্তা দিয়েও কি ভাঙন আটকাতে পারবেন লালু প্রসাদ যাদব?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি-র দুর্বল ফলাফলের পর লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারে শুরু হওয়া প্রকাশ্য টানাপোড়েন নিয়ে রাজনৈতিক মহল সরগরম। তবে এর মধ্যেই সোমবার পাটনায় বিধায়কদের বৈঠকে লালু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “এটা পুরোপুরি পরিবারের বিষয়। পরিবারই মিটিয়ে নেব। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।” বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে ছোট ছেলে তেজস্বী যাদবকে আরজেডি-র বিধানমণ্ডল দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।
পারিবারিক সংঘাতের সূত্রপাত হয় লালু-কন্যা রোহিনী আচার্যর সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে। গত শনিবার তিনি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, তেজস্বীর ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদব এবং সহকারী রমিজের হস্তক্ষেপে তিনি বারবার অপমানিত হয়েছেন। রোহিনী আচার্য, যিনি লালুকে নিজের কিডনি দান করেছিলেন, তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়েছে এবং এমনকি মারার জন্য জুতো তোলা হয়েছিল। বিহারে দলের গত দশ বছরের সবচেয়ে খারাপ ফলের জন্য তিনি ‘বহিরাগতদের’ অতিরিক্ত প্রভাবকেই দায়ী করেন।
রবিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন তাঁর তিন বোন—চন্দা, রাগিনি ও হেমা—লালুর বাসভবন ছেড়ে চলে যান। তাঁদের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের তুলনায় ‘বহিরাগতদের’ প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, আরজেডি থেকে বহিষ্কৃত বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি ভাই তেজস্বীকে পরাজয় ও পারিবারিক ভাঙনের জন্য দায়ী করে তোপ দাগছেন।
অন্যদিকে, বড় মেয়ে মিসা ভারতী এই পরিস্থিতিতে দলের ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, পরিবারে এমন ঘটনা হয়, আলোচনায় সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন দলের কাজকর্মে মন দিতে হবে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই পারিবারিক অশান্তিকে লালুর ‘পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব’-এর প্রমাণ বলে আক্রমণ করেছে।