৭৬ বছরের ফিল্মি কেরিয়ার, দীলিপ-দেব-রাজের নায়িকা; কাজ করতেন ৯৫ বছর বয়সেও! কে ছিলেন এই ‘মহা অভিনেত্রী’?

কিংবদন্তী অভিনেত্রী কামিনী কৌশলের জীবনাবসান। ৯৮ বছর বয়সে শুক্রবার এই প্রবীণ শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আর এই শোকের আবহেই শনিবার মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন তাঁর ব্লগে এক আবেগঘন নোট লেখেন। সেখানে তিনি কামিনী কৌশলের সঙ্গে তাঁর পরিবারের গভীর বন্ধন, দেশভাগের আগের দিনের স্মৃতি এবং অভিনেত্রীর ‘সুখদ, স্নেহময় ও প্রতিভাবান শিল্পী’ সত্তাটি তুলে ধরেন।

অমিতাভ বচ্চন প্রয়াত অভিনেত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে ‘মহান শিল্পী’ ও ‘বড় ব্যক্তিত্ব’ হিসাবে উল্লেখ করেন, যিনি হিন্দি সিনেমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। ১৯৪৬ সালে ‘নীচা নগর’ ছবি দিয়ে কামিনী কৌশলের অভিনয় জগতে হাতেখড়ি। ৪০-এর দশকের শেষার্ধ এবং ৫০-এর দশকের শুরুতে তিনি ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। দীলিপ কুমার, দেব আনন্দ এবং রাজ কাপুরের মতো ত্রয়ীর সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে ১৯৬০ এর দশক থেকে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে দেখা যায়। ২০২২ সালে, ৯৫ বছর বয়সে আমির খানের ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবিতে শেষবার অভিনয় করেন তিনি। তাঁর ৭৬ বছরের দীর্ঘ ফিল্মি সফর সত্যিই এক বিরল কৃতিত্ব।

শনিবার ‘শোলে’ অভিনেতা এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি লেখেন, “…আরেকটি দুঃখজনক খবর… পুরনো দিনের এক প্রিয় পারিবারিক বন্ধু আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন… যখন দেশ ভাগও হয়নি… কামিনী কৌশল জি – মহান শিল্পী, এক আদর্শ, যিনি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে এক বিশাল অবদান রেখেছেন এবং যিনি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে যুক্ত ছিলেন… তাঁর পরিবার এবং আমার মায়ের পরিবার, দেশভাগের আগে পাঞ্জাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।”

স্মৃতিচারণায় ‘বিগ বি’ আরও লেখেন, “কামিনী জির বড় বোন আমার মায়ের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন… তাঁরা দু’জন একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন এবং অত্যন্ত হাসিখুশি, সমমনা বান্ধবী ছিলেন… দুর্ভাগ্যবশত বড় বোন একটি দুর্ঘটনায় মারা যান, এবং সেই সময়ের প্রথা অনুযায়ী, প্রয়াত বোনের ছোট বোনের বিয়ে তাঁর দুলাভাইয়ের সাথে করে দেওয়া হয়।”

৯৮ বছর বয়সে এই “অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, স্নেহময়ী এবং প্রতিভাবান শিল্পী”র প্রয়াণে বচ্চন বলেন, “…স্মৃতির একটি পুরো যুগ শেষ হয়ে গেল… কেবল চলচ্চিত্র জগতের জন্য নয়, আমাদের বন্ধুত্বের জগতের জন্যও। একজন-একজন করে সবাই আমাদের ছেড়ে যাচ্ছেন… এটি খুবই দুঃখের মুহূর্ত, যেখানে এখন শুধু সমবেদনা আর প্রার্থনা বাকি।” মনোজ কুমারের ‘শহীদ’, ‘উপকার’ ও ‘পূরব ঔর পশ্চিম’-এর মতো ছবিতে তাঁর চরিত্রাভিনয়ের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী।