রাজনীতিতে ঝড় তুলে ‘সম্পর্ক ছিন্ন’ রোহিণীর! বিহারের পরাজয় ছাপিয়ে লালু পরিবারে কেন এত কোন্দল?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) শোচনীয় পরাজয়ের ধাক্কার পর এবার লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। শনিবার হঠাৎই আলোড়ন শুরু হয় যখন লালু যাদবের দ্বিতীয় কন্যা, রোহিণী আচার্য, যিনি সম্প্রতি কিডনি দান করে তার বাবার জীবন বাঁচিয়েছিলেন, তিনি রাজনীতি এবং পরিবার থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।

রোহিণী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “আমি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছি এবং আমার পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি… সঞ্জয় যাদব এবং রমিজ আমাকেও একই পরামর্শ দিয়েছিলেন।” এই বিস্ফোরক ঘোষণার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়া এবং টিভি চ্যানেলগুলিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই রোহিণীর প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ এবং লালু প্রসাদ, রাবড়ি দেবী এবং তেজস্বী যাদবের কাছ থেকে জবাব চাইছে। এর আগে, এই বছরের মে মাসে তেজপ্রতাপ যাদবকেও তাঁর পরিবার এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যদিও তিনি পরে নিজের দল গঠন করে নির্বাচনে লড়েছিলেন।

লালু প্রসাদ যাদব এবং রাবড়ি দেবীর মোট ৯টি সন্তান (দুই ছেলে এবং সাত মেয়ে)। বিহারের রাজনীতিতে লালু পরিবার সবসময়ই খবরের শিরোনামে থাকে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক লালু প্রসাদ যাদবের সাত মেয়ের স্বামীরা কে কী করেন:

কন্যা স্বামী বিয়ের সাল পেশা ও পরিচয়
মিসা ভারতী শৈলেশ কুমার ১৯৯৯ প্রাক্তন ইনফোসিস কর্মী, এমবিএ ডিগ্রিধারী। বর্তমানে নিজস্ব ব্যবসা চালান। (মিসা রাজ্যসভার সাংসদ)
রোহিণী আচার্য সমরেশ সিং ২০০২ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, INSEAD থেকে এমবিএ। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের এভারকোর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ
চন্দা যাদব বিক্রম সিং ২০০৬ দীর্ঘদিন ধরে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট ছিলেন।
রাগিনী যাদব রাহুল যাদব ২০১২ সুইস হোটেল ম্যানেজমেন্টে স্নাতক। সমাজবাদী পার্টির সক্রিয় নেতা। গাজিয়াবাদে বড় রেস্তোরাঁ চালান।
হেমা যাদব বিনীত যাদব ২০১২ দিল্লির রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী পরিবার থেকে আসা। রাজনীতি এবং ব্যবসা উভয়ের সাথেই জড়িত।
অনুষ্কা রাও চিরঞ্জীব রাও ২০২০ ২০১৯ সালে দক্ষিণ হরিয়ানার রেওয়ারি বিধানসভা আসন থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। ক্যাপ্টেন অজয় ​​সিং যাদবের ছেলে।
রাজলক্ষ্মী যাদব তেজ প্রতাপ সিং ২০১৫ মুলায়ম সিং যাদবের নাতি। সাবেক সংসদ সদস্য (মৈনপুরী)। এই সম্পর্কের কারণে রাজলক্ষ্মী অখিলেশ যাদব এবং ডিম্পল যাদবের পুত্রবধূ।

লালু প্রসাদ যাদবের পরিবার রাজনীতি এবং পেশাগত জীবনে বড় পদাধিকারী ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত। রোহিণীর এই বিস্ফোরক ঘোষণা বিহারের রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।