‘ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হবে!’ কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে কীভাবে পরীক্ষায় বসলেন নীতীশ?

২০২৫ সালের এসএসসি-র একাদশ-দ্বাদশের ফলপ্রকাশের পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন নীতীশরঞ্জন বর্মণ। এই নামটি আগেই শিরোনামে এসেছিল, কারণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি যে ‘দাগী’ (অযোগ্যভাবে চাকরি পাওয়া) প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে নীতীশরঞ্জনের নাম ছিল। এবার সেই নীতীশের নামই ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় আসতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

দাগী হয়েও কীভাবে বসলেন পরীক্ষায়?

‘দাগী’ প্রার্থী হয়েও নীতীশরঞ্জন কীভাবে আবার পরীক্ষায় বসলেন এবং ভেরিফিকেশনের জন্য ডাক পেলেন, সেই প্রশ্ন বিতর্কের অবকাশ রাখেনি। এই বিতর্কের জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দ্রুত বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, মামলাটি গৃহীত হয়েছে।

এসএসসি-র বক্তব্য কী?

স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এই বিতর্কের মুখে মুখ খুলেছে। কমিশনের বক্তব্য:

“এই বছর ৩ এপ্রিল মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে।”

তবে এসএসসি জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, এত সতর্কতা সত্ত্বেও কোনো প্রার্থী যদি ‘দাগী’ হয়ে সুযোগ পেয়েও যান, তাহলে ভেরিফিকেশন করার সময় অবশ্যই তাকে বাদ দেওয়া হবে। সেই ক্ষমতা সব সময় স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে আছে।

স্ত্রীর অভিযোগ এবং আইনি ফাঁক

এই বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন নীতীশরঞ্জনের স্ত্রী, যাঁর সঙ্গে বর্তমানে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। তিনিই প্রথমে আইনজীবী ফিরদৌস শামিমকে ফোন করে অভিযোগ করেন যে, অযোগ্য হয়েও নীতীশ রঞ্জন বর্মণ পরীক্ষায় বসেছেন এবং ভেরিফিকেশনের জন্য ডাক পেয়েছেন।

পরিবারের তরফেও ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ হওয়ার বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে। হাইকোর্ট বিশেষভাবে সক্ষমদের বয়স ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট একজনও দাগী প্রার্থীকে পরীক্ষায় না বসতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ স্পষ্ট—একজনও ‘দাগী’ প্রার্থী বসবে না। সেক্ষেত্রে নীতীশরঞ্জনের পরীক্ষায় বসার কথাই নয়। ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ কোটায় পাওয়া ‘অন্যান্য ছাড়’ কি ‘দাগী’ হওয়ার ক্ষেত্রেও ছাড় হিসাবে গণ্য হবে? আইনের এই ফাঁক নিয়েই এখন চরম বিতর্ক চলছে।