পুরুষদের তুলনায় মহিলাদেরই কেন বেশি থাইরয়েডের সমস্যা? বাবা রামদেব জানালেন মুক্তির উপায়!

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যা বাড়তে থাকলেও, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো হরমোনের পরিবর্তন—ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের মতো জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায় এই থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।
থাইরয়েড হলো মানব শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি, যা থেকে হরমোন তৈরি হয়। এই হরমোনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়লে বা কমলে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়।
থাইরয়েডের কারণ ও প্রকারভেদ:
থাইরয়েডের সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অটো ইমিউন ডিসঅর্ডার, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে। এছাড়াও, আয়োডিনের অভাব, অনিয়মিত রুটিন এবং মানসিক চাপ সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
-
হাইপোথাইরয়েডিজম: যখন গ্রন্থিটি কম হরমোন তৈরি করে। এর ফলে ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, ভুলে যাওয়া, সামান্যতেই ঠান্ডা লাগা ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
-
হাইপারথাইরয়েডিজম: যখন গ্রন্থিটি বেশি হরমোন তৈরি করে। এর ফলে ওজন কমে যায়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, স্নায়বিকতা (nervousness), ঘুমের অভাব ও গরম লাগার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
সময়মতো শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর সেই নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যোগব্যায়াম।
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে বাবা রামদেবের ৪টি সেরা যোগব্যায়াম
যোগগুরু বাবা রামদেব বলেন, যোগব্যায়াম পুরো শরীরকে সক্রিয় করে এবং রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিয়মিত কিছু বিশেষ যোগব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন:
| যোগব্যায়াম | উপকারিতা |
| ১. সূর্য নমস্কার (Surya Namaskar) | নিয়মিত অভ্যাস করলে বিপাক ক্রিয়া দ্রুত হয়। |
| ২. ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম (Bhastrika Pranayama) | থাইরয়েড গ্রন্থিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়, ক্লান্তি ও অলসতা দূর করে। |
| ৩. কপালভাতি (Kapalbhati) | বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। |
| ৪. সিংহাসন (Simhasana) | গলার পেশি শক্তিশালী হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করে। |
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
-
যোগব্যায়ামের সময়: সম্পূর্ণ সুফল পেতে নিয়মিত খালি পেটে এই যোগব্যায়ামগুলি করা উচিত।
-
চিকিৎসার বিকল্প নয়: মনে রাখবেন, যোগব্যায়াম ওষুধের বিকল্প নয়, এটি কেবল সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।
-
সুষম জীবন: যোগব্যায়ামের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় ঘুম ও সঠিক সময়ে ওষুধ খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।