‘তৃণমূল থেকে উঠেছে আওয়ামী লীগ, পকেট থেকে নয়’! জনগণের হাতেই বিচারভার, বললেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলার রায় আজ, সোমবার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) ঘোষণা করতে চলেছে। রায় ঘোষণার ঠিক আগে, নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এক অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী।

“আমার কিছু যায় আসে না, আল্লাহই নেবেন জীবন”

নিজের অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘অরাজকতার দায়’ সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, তিনি এই ধরনের আদালতের রায়কে পরোয়া করেন না:

“ওদের রায় দিতে দাও। আমার কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তা কেড়ে নেবেন, কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”

ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আওয়ামী লীগ নেত্রী নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর দলকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “এটা করা এতটাও সহজ নয়, আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে, ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউনুস সরকার গত বছরের বিদ্রোহের সময় ছাত্র বিক্ষোভকারীদের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছিল শুধুমাত্র একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। তাঁর আরও অভিযোগ, পুলিশ, আওয়ামী লীগ কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের সাধারণ ক্ষমা দিয়ে ইউনুস সরকার নিজেই দায় চাপিয়ে নিয়েছে।

জনগণই করবে বিচার, আসছে সুদিন

প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পর দেশজুড়ে সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে তিনি নতুন করে বিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। হাসিনা বলেন:

“জনগন আমাদের বিশ্বাস দিয়েছে যে, এই দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদী এবং খুনি ইউনুসকে তারা দেখিয়ে দেবে যে বাংলাদেশ কত তাড়াতাড়ি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। জনগণই এর বিচার করবে।”

তিনি সাধারণ ক্ষমার সমালোচনা করে বলেন, এই ক্ষমার ফলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের আদালতের রায় তাঁকে থামাতে পারবে না। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন:

“আমি জনগণের সাথে আছি। আমি আমার দলীয় কর্মীদের বলছি, চিন্তা কোরো না। এটা সময়ের ব্যাপার। আমি জানি তোমরা কষ্ট পাচ্ছ, আমরা ভুলব না, সবকিছুর হিসাব হবে। আমি বিশ্বাস করি যে, আমি তা ফিরিয়ে দিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, উৎপাদন নেই, শিল্প কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং ব্যাংকও লুট হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।