৫ মারাত্মক অভিযোগে আজ রায়! আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’, হাই অ্যালার্টে ঢাকা— কী হতে চলেছে?

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলার রায় আজ, সোমবার (১৭ নভেম্বর), ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ঘোষণা করতে চলেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে পরিস্থিতি চরম অগ্নিগর্ভ। দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিক্ষোভ, মশাল মিছিল এবং সহিংসতার কারণে প্রশাসন সারা দেশে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।

আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ ও বোমা বিস্ফোরণ

রায়ের একদিন আগে থেকেই শেখ হাসিনার সমর্থক দল দেশজুড়ে ‘লকডাউন’-এর ডাক দিয়েছে। বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল। রবিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাড়ির বাইরে দুটি এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় আরও একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কেউ নিহত হননি।

হাসিনার অডিও বার্তা, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা সামনে এসেছে, যেখানে তিনি সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসিনা তাঁর অডিও বার্তায় বলেন:

“ওদের রায় দিতে দাও। আমার কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তা কেড়ে নেবেন, কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আমি আমার বাবা-মা, ভাইবোনদের হারিয়েছি এবং ওরা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।”

তাঁর এই বার্তা আসার পরই প্রতিবাদের আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

গোলমাল নিয়ন্ত্রণে ‘গুলি চালানোর’ নির্দেশ

সহিংসতা ও গোলমাল থামাতে ঢাকা পুলিশ কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলি পুলিশ কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেউ যদি পুলিশের উপর হামলা করে বা হিংসা ছড়ায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে গুলি চালানো যেতে পারে। রায় ঘোষণার আগে ঢাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও র‍্যাব মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫টি গুরুতর অভিযোগ

শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার আমলের পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মোট ৫টি মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, গত বছর জুলাই-অগাস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁদের পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে হিংসা ও মানুষ খুন হয়, যা মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। প্রসিকিউশন পক্ষ এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। যদিও শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগকে মিথ্যা বলেছেন।