রাজা রামমোহন রায়কে ‘ব্রিটিশদের দালাল’ বলায় বিতর্ক, বিজেপিকে সতীদাহ প্রথার সমর্থক বলে কুণাল ঘোষের আক্রমণ

মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার সম্প্রতি বীরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলার সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে ‘ব্রিটিশদের দালাল’ বলে নিশানা করায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে নারী স্বাধীনতা ও সতীদাহ প্রথার বিরোধী বলে একযোগে আক্রমণ করেছে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস।

তৃণমূলের আক্রমণ: ‘বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান’
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই মন্তব্যকে “শুধু একজন মনীষীকে অপমান নয়, বাংলার নবজাগরণ ও সংস্কৃতিকে অপমান করার ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন:

“তিনি বুঝতেই পারছেন না রামমোহন বাংলা তো বটেই, গোটা ভারতবর্ষের গর্ব। সতীদাহ প্রথা রোধ, নারীর সুরক্ষা, সমাজের কল্যাণ, একাধিক বৈপ্লবিক পদক্ষেপের জন্য তাঁকে সারা বিশ্বে সম্মান করা হয়। বিজেপি কি তাহলে সতীদাহ প্রথা সমর্থন করে?”

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী রামমোহন রায়ের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি।

বাম ও কংগ্রেসের নিশানা: ‘মনুবাদী’ ও ‘সাভারকরের উত্তরসূরী’
রাজা রামমোহন রায়কে ‘ব্রিটিশদের দালাল’ বলার মন্তব্যে বিজেপি ও আরএসএস-কে সরাসরি নারী স্বাধীনতা বিরোধী ‘মনুবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছেন সিপিআইএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত:

নারী স্বাধীনতার বিরোধী: “মহিলাদের অধিকার রক্ষায় বরাবর আপত্তি রয়েছে বিজেপি ও আরএসএসের। মনুবাদ শিখিয়েছে মহিলাদের ঘরের মধ্যে থাকতে… ফলে মহিলারা পড়াশোনা করবেন, সতীদাহ রদ হবে, এর সবটাতেই আরএসএসের আপত্তি।” তিনি দাবি করেন, এর ফলে ওদের মডেল হিন্দু রাষ্ট্র গড়তে সমস্যা হবে।

পরিকল্পিত মন্তব্য: কলতান দাশগুপ্ত পারমারের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকেও পূর্ব পরিকল্পিত বলে দাবি করে বলেন, “আসলে ওরা মাঝেমধ্যে এরকম মন্তব্য করে দেখে নিতে চায় মানুষের কী রকম প্রতিক্রিয়া।”

প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায় চৌধুরী বিজেপিকে সাভারকরের অনুগামী বলে আক্রমণ করে বলেন:

“মুচলেকা দেওয়া এদের পূর্বপুরুষ সাভারকর, ব্রিটিশদের লিখেছিলেন ‘আমরা তোমার অনুরক্ত’… তারা আক্রমণ করে রাজা রামমোহন রায়কে! এটাই তো মনুবাদী বিজেপি ও আরএসএস।”

বিতর্কের জেরে মন্ত্রীর ক্ষমা ও রাজ্য বিজেপির অবস্থান:
বিতর্কের মাঝে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার। তিনি দাবি করেছেন, “ভগবান বিরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে আমি মুখ ফসকে রাজা রামমোহন রায়কে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে ফেলেছি। আমি এর জন্য অনুশচনাবোধ করছি এবং ক্ষমা চাইছি।”

তবে বিতর্কের জেরে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব কার্যত মুখ বাঁচাতে মরিয়া।

রাহুল সিনহার সাফাই: প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা আবার ইন্দর সিং পারমারের হয়ে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, “তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হচ্ছে। উনি যেটা বলেছেন, তার মানে এটা নয়।”

জগন্নাথ সরকারের এড়িয়ে যাওয়া: রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, “আমি ওঁর বক্তব্য শুনিনি। আমরা রাজা রামমোহন রায়কে সমাজ সংস্কার হিসাবে জানি। ওঁকে সম্মান করি।”