“AI-এর তৈরি গান চিনতে পারে না মানুষ”-বলছে গবেষণার রিপোর্ট

সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি গান এবং মানুষের তৈরি গানের মধ্যে পার্থক্য করতে বেশিরভাগ মানুষই সম্পূর্ণ ব্যর্থ—নতুন এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মোট আটটি দেশের ৯ হাজার ব্যক্তিকে নিয়ে করা এক ‘ব্লাইন্ড টেস্ট’-এ এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে।

🎶 ৯৭ শতাংশ মানুষই ভুল করেছেন!

‘ইপসোস’ (Ipsos) ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজার’ (Deezer)-এর পরিচালিত এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের তিনটি গান শোনানো হয়, যার মধ্যে দুটি ছিল AI-এর তৈরি এবং একটি মানুষের তৈরি।

সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মানুষের তৈরি গানটি ঠিকভাবে চিনতে পারেনি ৯৭ শতাংশ মানুষই। এই বিভ্রান্তির কারণে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীই অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং শিল্পীদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

🎧 প্রতিদিন ৫০ হাজার গানের বন্যা

ডিজার-এর সিইও অ্যালেক্সিস ল্যানটার্নিয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্ল্যাটফর্ম ও শ্রোতাদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্ট্রিমিং পরিষেবা পুরোপুরিভাবে ‘এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি গানের বন্যায়’ ভেসে যাচ্ছে।

  • আপলোড সংখ্যা: ডিজার জানিয়েছে, প্রতিদিন তাদের প্ল্যাটফর্মে ৫০ হাজারেরও বেশি এআই-এর তৈরি গান আপলোড হয়, যা মোট নতুন গানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ।

  • প্রতারণার আশঙ্কা: স্ট্রিমিং জায়ান্টটি ধারণা করছে, এই গানগুলির মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই জালিয়াতি (Fraud), যাদের মূল উদ্দেশ্য কেবল গান শোনানোর মাধ্যমে আয় করা।

ডিজার অবশ্য জানিয়েছে, তাদের AI শনাক্তকরণ টুল ব্যবহার করে এইসব গান চিহ্নিত করা হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

📢 শ্রোতাদের দাবি: লেবেলিং চাই

সমীক্ষায় স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, মানুষ জানতে চায় তারা যে গান শুনছেন তা এআই দ্বারা তৈরি না কি মানুষের তৈরি। বেশিরভাগ মানুষ চাইছেন, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন গানকে ‘অ্যাপল মিউজিক’, ‘ডিজার’, ও ‘স্পটিফাই’-এর মতো প্ল্যাটফর্মে স্পষ্টভাবে লেবেলিং করা হোক।

এদিকে, এই সপ্তাহে এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি একটি গান—ব্রেকিং রাস্টের ‘ওয়াক মাই ওয়াক’—প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষে উঠে এসেছে। এটি স্পটিফাইতে ৩০ লাখেরও বেশি বার শোনা হয়েছে, যা AI সঙ্গীতের বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা ও মানের প্রমাণ দেয়।