শীতে গাড়ির ইঞ্জিন ঠিক রাখতে যেসব ভুল করবেন না, জেনেনিন কী কী?

শীতের কম তাপমাত্রায় গাড়ির ইঞ্জিন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চাপের মুখে পড়ে। ইঞ্জিন অয়েল ঘন হয়ে যাওয়া, ব্যাটারির শক্তি দ্রুত কমে যাওয়া এবং কুল্যান্টের গুণাগুণ নষ্ট হওয়া—এই সবকিছুর ফলে সামান্য ভুলেও বড় ক্ষতির দিকে ঝুঁকতে পারে আপনার প্রিয় গাড়িটি। গাড়ির ইঞ্জিনকে ঝামেলামুক্ত রাখতে মালিকদের কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলতে হবে।

এখানে তেমনই ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভুল এবং তার সমাধানের পথ তুলে ধরা হলো:

ভুল (Mistake) কেন হয়? (The Risk) সমাধান (The Solution)
১. ইঞ্জিন প্রিহিট না করেই চালানো ঘন অয়েল দ্রুত সমস্ত অংশে পৌঁছাতে পারে না, ঘর্ষণ বাড়ে। ইগনিশন অন করার পর গতি তোলার আগে অন্তত ৩০–৬০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
২. ভুল গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার ঘন অয়েল স্টার্ট নিতে সমস্যা, মাইলেজ হ্রাস এবং ইঞ্জিনের ক্ষয় বাড়ায়। গাড়ির ম্যানুয়াল অনুযায়ী ‘উইনটার রেটিং’ সহ মাল্টিগ্রেড অয়েল (যেমন- ৫ওয়াট-৩০ওয়াট) ব্যবহার করুন।
৩. ব্যাটারির স্বাস্থ্য উপেক্ষা করা ঠান্ডায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সকালে ‘ক্র্যাঙ্কিং’ স্লো হয়। নিয়মিত ব্যাটারির ভোল্টেজ এবং টার্মিনাল পরিষ্কার নিশ্চিত করুন। ২-৩ বছরে ব্যাটারি বদলান।
৪. কুল্যান্ট পরীক্ষা না করা শুধু পানি ব্যবহার করলে বরফ জমে ইঞ্জিন হেড ও ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অবশ্যই অ্যান্টিফ্রিজ মিশ্রিত কুল্যান্ট (৫০/৫০ রেশিও) ব্যবহার করুন এবং লিক পরীক্ষা করুন।
৫. টায়ারের প্রেশার উপেক্ষা করা ঠান্ডায় এয়ার প্রেসার দ্রুত কমে যায়, যা ব্রেকিং ও মাইলেজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতি সপ্তাহে একবার টায়ারের প্রেসার চেক করে ম্যানুফ্যাকচারার নির্ধারিত PSI অনুযায়ী ঠিক করুন।
৬. রাতভর গাড়ি খোলা স্থানে ফেলে রাখা অতিরিক্ত ঠান্ডা ফ্লুইড এবং ব্যাটারিকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে, স্টার্ট নিতে সময় নেয়। সম্ভব হলে গ্যারেজে রাখুন অথবা গাড়ির কভার ব্যবহার করুন।
৭. নিয়মিত সার্ভিসিং এড়িয়ে যাওয়া শীতে ইঞ্জিনের ছোট সমস্যা দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। এয়ার ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ, বেল্ট ইত্যাদি পরীক্ষা করুন। বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং জরুরি।
৮. লো-কোয়ালিটি ফুয়েল ব্যবহার কম মানের তেল শীতে বেশি ঘন হয় এবং পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। বিশ্বস্ত পাম্প থেকে অকটেন বা ডিজেল নিন। প্রয়োজনে ফুয়েল অ্যাডিটিভ ব্যবহার করতে পারেন।
৯. ইঞ্জিন অয়েল লেভেল উপেক্ষা করা লেভেল কম থাকলে ঘন অয়েলের চাপে ইঞ্জিন ড্যামেজ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। প্রতি ১০-১৫ দিন পর ডিপস্টিক দিয়ে অয়েল লেভেল চেক করুন।