সাড়ে চারশো বছরের ঐতিহ্য! গোপাষ্টমীতেই শুরু হয় ঐতিহাসিক গোষ্ঠমেলা, বীরভূমের খয়রাশোলে আজও বলরাম জীউ মন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের ঢল!

বীরভূমের খয়রাশোল মানেই শতাব্দী প্রাচীন ‘বলরাম জীউ মন্দির’। প্রায় সাড়ে চারশো বছরের এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি আজও খয়রাশোলের মূল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় বহন করে। জেলার গণ্ডি পেরিয়ে এই মন্দির এবং এর বার্ষিক গোষ্ঠমেলা সমগ্র এলাকার এক অন্যতম আকর্ষণ।
জানা যায়, মন্দিরের সেবায়েতদের পূর্বপুরুষেরা প্রায় ৪৫০ বছর আগে মঙ্গলডিহি থেকে বলরাম বিগ্রহ নিয়ে খয়রাশোলে এসেছিলেন। যদিও তাঁরা এখানকার আদি বাসিন্দা ছিলেন না, তবুও এখানকার ইতিহাসে তাঁদের অবদান অপরিসীম।
বর্তমান সেবায়েতরা জানান, সেই প্রাচীন ঐতিহ্য আজও বজায় আছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত, এমনকি ঝাড়খণ্ড ও বর্ধমান থেকেও তাঁদের অসংখ্য শিষ্য আজও এই গ্রামে আসেন।
গোপাষ্টমীতে শুরু, চলে পাঁচ দিন
বলরাম প্রভুর সেবায়েত সুপ্রতিম ঠাকুর বলেন, “শুধু খয়রাশোল নয়, খয়রাশোল ব্লক ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষও আমাদের বলরাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে এক গভীর শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ অনুভব করেন। প্রতি বছর গোপাষ্টমী তিথিতে এই গোষ্ঠমেলা শুরু হয়, যা প্রায় পাঁচ দিন ধরে চলে।”
মেলার প্রথম দিনে অর্থাৎ গোপাষ্টমীর তিথিতে বলরাম প্রভুর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে গোষ্ঠমঞ্চের মাঠ পর্যন্ত। প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ঢাক এবং নানা বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে মহা ধুমধামে সেখানে বনভোজন ও পুজো-আরতি হয়।
সারাদিন প্রভু গোষ্ঠমঞ্চে বিরাজমান থাকেন। তারপর রাত্রি দশটা নাগাদ পুনরায় মন্দিরে ফিরে আসেন। এই মুহূর্তে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গোষ্ঠমেলার পর্ব, যা কয়েক দিন ধরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে।