পার্সোনাল লোন নিচ্ছেন? ভুলেও করবেন না এই ৫টি মারাত্মক ভুল! জানুন না হলে কীভাবে ফাঁদে পড়বেন

জরুরী প্রয়োজন মেটানো থেকে শুরু করে বড় কোনো খরচ—ব্যক্তিগত ঋণ (Personal Loan) একটি দ্রুত এবং সহজ সমাধান। কিন্তু এই ঋণ নেওয়ার সময় কিছু সাধারণ ভুল অনেক ঋণগ্রহীতাকে দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। সঠিক পরিকল্পনা এবং সতর্কতা অবলম্বন করলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার সময় যে পাঁচটি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলা উচিত, তা নিচে দেওয়া হলো:

১. ক্রেডিট স্কোর যাচাই না করা (Ignoring Credit Score)

ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে জামানতের প্রয়োজন হয় না, তাই আপনার ক্রেডিট স্কোর (CIBIL Score) ঋণদাতার কাছে আপনার পরিশোধের ক্ষমতা প্রমাণের প্রধান ভিত্তি।

কম ক্রেডিট স্কোর থাকলে সুদের হার অনেক বেশি হবে, অথবা আপনার আবেদন বাতিলও হতে পারে।

ঋণের জন্য আবেদন করার আগে নিজের ক্রেডিট স্কোর এবং ক্রেডিট রিপোর্ট অবশ্যই পরীক্ষা করুন। যদি স্কোর কম থাকে, তবে আগে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ করে বা পুরোনো ঋণ মিটিয়ে স্কোর উন্নত করার চেষ্টা করুন।

২. পরিশোধের ক্ষমতা বিবেচনা না করা (Not Assessing Repayment Capacity)

অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ নিয়ে নেন, যা আপনার প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হতে পারে।

আপনার মাসিক আয় এবং ব্যয়ের সঠিক হিসাব করুন। আপনার মাসিক কিস্তি (EMI) যেন আপনার মাসিক আয়ের একটি সহনীয় অংশের মধ্যে থাকে (বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ১০%-এর বেশি না হওয়ার পরামর্শ দেন)।

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঋণ নিলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ ইএমআই দিতে হবে এবং সুদের বোঝাও বাড়বে।

৩. একাধিক ঋণদাতার অফার তুলনা না করা (Not Comparing Multiple Offers)

প্রথম যে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অফার পান, তাতেই রাজি হয়ে যাওয়া একটি বড় ভুল।

বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC)-এর সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য চার্জ তুলনা করুন। সামান্য ১-২% সুদের হারের পার্থক্যও দীর্ঘ মেয়াদে কয়েক হাজার টাকার ফারাক তৈরি করতে পারে।

অনলাইনে তুলনা করার টুল ব্যবহার করে সবচেয়ে কম সুদের হার এবং অনুকূল শর্তযুক্ত ঋণদাতা নির্বাচন করুন।

৪. লুকানো চার্জ এবং শর্তাবলী না পড়া (Ignoring Fees and Fine Print)

ঋণের আবেদনে কেবল সুদের হার দেখেই সন্তুষ্ট হবেন না।

ঋণ চুক্তির ‘ফাইন প্রিন্ট’ বা ছোট অক্ষরে লেখা শর্তাবলী খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। এখানে প্রসেসিং ফি, লেট পেমেন্ট পেনাল্টি (Late Payment Penalty) এবং বিশেষ করে প্রি-পেমেন্ট বা ফোরক্লোজার চার্জ (Pre-payment/Foreclosure Charges) উল্লেখ করা থাকে।

অনেক ঋণদাতা ঋণ দ্রুত পরিশোধের জন্যেও জরিমানা ধার্য করে, যা না জানলে পরে আফসোস করতে হতে পারে।

৫. দীর্ঘ মেয়াদ বেছে নেওয়া (Opting for a Longer Tenure)

অনেকেই ইএমআই কমানোর জন্য ঋণের মেয়াদ (Tenure) দীর্ঘ করে নেন।

দীর্ঘ মেয়াদ মানে মাসিক কিস্তি (EMI) কম হবে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে আপনাকে সামগ্রিকভাবে অনেক বেশি সুদ দিতে হবে।

যদি আপনার পরিশোধের ক্ষমতা থাকে, তবে স্বল্প মেয়াদ বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এতে আপনার ঋণের মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি আর্থিক চাপমুক্ত থাকতে পারবেন এবং স্মার্ট ঋণগ্রহীতা হিসেবে পরিচিত হবেন।