অন্যের কাঁচা বাড়ি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটস্থ! আবাস যোজনার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বয়ং সার্ভে অফিসার

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে বাংলা আবাস যোজনার ঘর বিলি নিয়ে চরম দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্যের ভগ্নপ্রায় কাঁচা বাড়ি দেখিয়ে সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং আবাস যোজনার তালিকা তৈরির কাজে নিযুক্ত সার্ভে অফিসারের বিরুদ্ধে।
হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা পীতাম্বর দাস। তিনি অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় থাকা একটি মাটির বাড়িতে বসবাস করেন। বাংলা আবাস যোজনায় ঘর দেওয়া শুরু হওয়ায় তিনিও পাকা বাড়ি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর নাম প্রাথমিকভাবে তালিকায় ছিল। প্রশাসনের কর্মীরা এসে তাঁর মাটির ঘরের ছবি তুলে গেলেও, পরে তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ চলে যায়। পীতাম্বর দাস অভিযোগ করেন, “আমার আগে নাম ছিল। এখন নেই। পরে আমায় অন্যের একটা পাকা বাড়ি দেখিয়ে বলছে যে ওটা নাকি আমার বাড়ি।”
পীতাম্বরের অভিযোগ, তাঁর এই মাটির বাড়িটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে একটি পাকা অট্টালিকার মালিক ঘর পেয়ে গিয়েছেন। আর যিনি এই কাজ করেছেন, তিনি নাকি এই প্রকল্পের তালিকা তৈরির সার্ভে কর্মী বলেই এলাকায় পরিচিত। বঞ্চিত উপভোক্তা পীতাম্বর দাস এরপর সুবিচারের দাবিতে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতির কারণেই কেন্দ্র সরকার বাংলার জন্য টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। এখন রাজ্য সরকার ‘নাটক’ করে টাকা দিচ্ছে। বিজেপির দাবি, প্রশাসনের মদতে এইভাবেই তৃণমূলের নেতারা ঘরের টাকা আত্মসাৎ করছেন।
যদিও পাল্টা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসক দলের দাবি, কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে টাকা আটকে রেখেছিল। এখন মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘর দিচ্ছেন। তৃণমূল নেত্রী মার্জিনা খাতুন বলেন, “কেন্দ্রই টাকা বন্ধ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘরের টাকা দিচ্ছেন। এখন এই অভিযোগের কথা শুনছি। গোটাটাই তদন্ত করে দেখা হবে।”