‘মানবতা আজও বেঁচে আছে’! জিমের গেটে ঝোলায় ফেলে যাওয়া সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে দত্তক নিলেন জিম মালিক

মানবতা আজও বেঁচে আছে, তার প্রমাণ মিলল বিহারের রাজধানী পটনায়। অমানবিকতার চরম নিদর্শন স্বরূপ কেউ একজন একটি সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে একটি ঝোলায় ভরে জিম সেন্টারের গেটে ঝুলিয়ে রেখে যায়। জিম সেন্টারের মালিক যখন শিশুটিকে দেখেন, তখন তিনি প্রথমে পুলিশকে জানান। এরপর তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন, তার জন্য আজ মুগ্ধ গোটা পটনা।
কান্নার শব্দে খোঁজ মিলল লক্ষ্মীর
ঘটনাটি ঘটেছে রাজীব নগর থানার অন্তর্গত ১৮ নম্বর রোডের কাছে। শনিবার সকালে কিছু লোক ওই এলাকার ‘প্ল্যাটিনাম ফিটনেস’ (Platinum Fitness) নামক জিম সেন্টারের কাছ থেকে এক নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। জিম সেন্টারের মালিক সৌরভ সুমন প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে জিম খুলতে এসে কান্নার আওয়াজ শুনে অবাক হন। তিনি লক্ষ্য করেন, জিমের গেটে একটি ঝোলা ঝুলছে এবং আওয়াজটি সেখান থেকেই আসছে।
মশাদের কামড় থেকে রক্ষা
এরপর সৌরভ জিমের সদস্য ও গ্রাহকদের জড়ো করে তাদের সামনে ঝোলাটি খোলেন। ঝোলাটি খোলার পর সবাই হতবাক হয়ে যান। ভেতরে একটি সদ্যোজাত কন্যাসন্তান কাপড়ে মোড়া অবস্থায় ছিল এবং তাকে মশা প্রচণ্ড কামড়াচ্ছিল।
এই ঘটনার পর সৌরভ স্থানীয় থানায় যান। পুলিশ তাকে জানায়, যদি তিনি শিশুটিকে নিজের কাছে রাখতে চান, তবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর তা করতে পারেন। এরপর সৌরভ শিশুটিকে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে যান এবং তার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
‘এই আমাদের লক্ষ্মী’
সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সৌরভ সুমন সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি এই সদ্যোজাত কন্যাসন্তানটিকে নিজের কাছে রাখবেন। তিনি বলেন, তিনি বিবাহিত এবং তাঁর ইতিমধ্যেই দুটি সন্তান রয়েছে। যেহেতু শিশুটিকে তাঁর জিমের গেটে ফেলে যাওয়া হয়েছে, তাই সে এখন তাঁর জন্য ‘লক্ষ্মীর রূপ’। সৌরভের পরিবারের সদস্যরাও তাঁর এই মানবিক সিদ্ধান্তে পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছেন। সৌরভের এই হৃদয়স্পর্শী সিদ্ধান্তকে পুরো এলাকার মানুষ প্রশংসা করছেন।