বিয়ের মরসুমে চরম ডিমান্ড: সাফা পরাতে এখন বাড়িতে আসছেন পেশাদার ‘সাফা আর্টিস্ট’, রেট আকাশছোঁয়া!

রাজস্থানের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক জোধপুরি সাফা (Jodhpuri Safa) ফের একবার বিয়ের মরসুমে ফ্যাশন ট্রেন্ডের শীর্ষে। আধুনিক পোশাকের ভিড়েও এই ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি বা সাফা অনুষ্ঠানগুলিতে এক বিশেষ মর্যাদা যোগ করে। একসময় যেখানে মানুষ নিজেরাই সাফা পরার চেষ্টা করতেন, সেখানে এখন নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই শিল্পে দক্ষতা কম দেখা যায়। এই কারণেই সাফা বাঁধার কাজে পারদর্শী পেশাদার শিল্পীদের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
এই দক্ষ শিল্পীরা এখন শুধু স্থানীয় অনুষ্ঠানেই নয়, বরং বাড়ি বাড়ি এবং বিলাসবহুল রিসর্টগুলিতে গিয়েও অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী কায়দায় সাফা পরিয়ে দিচ্ছেন।
ব্যক্তিগত স্পর্শে বাড়ছে চাহিদা জোধপুরের প্রখ্যাত ‘ঋষভ সাফা’-র মতো শিল্পীরা এই পুরোনো শিল্পকলাকে নতুন রূপ দিচ্ছেন। তাঁরা বর-কনে থেকে শুরু করে বিদেশি অতিথি—সকলের জন্যই সাফা বাঁধার কাজ করেন। এই শিল্পীরা বোঝেন যে সাফা কেবল একটি পরিধান নয়, এটি ব্যক্তির পরিচয় এবং উৎসবের অঙ্গ। বিশেষত্ব হলো, তাঁরা প্রতিটি ব্যক্তির মাথার আকার, পোশাকের রং এবং অনুষ্ঠানের থিম অনুযায়ী সাফা তৈরি করেন। তাঁদের এই ‘পার্সোনাল টাচ’ বা ব্যক্তিগত যত্নই সাফার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রধান কারণ। এতে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক সুন্দর মিশেল দেখা যায়।
বিদেশের মাটিতেও জোধপুরি কলার কদর সাফা শিল্পী মুকেশ প্রজাপত জানিয়েছেন, জোধপুরের সাফা শিল্পীদের দক্ষতা এখন দুবাই, লন্ডন, কানাডা এবং আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বিদেশে আয়োজিত ভারতীয় বিবাহ অনুষ্ঠানেও তাঁদের বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিদেশে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা তাঁদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে রাজস্থানী সাফার ঐতিহ্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। মুকেশ বলেন, “সাফা কেবল পোশাক নয়, এটি রাজস্থানের ঐতিহ্য ও সম্মানের প্রতীক।” এই শিল্পীরা তাঁদের কলার মাধ্যমে বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন।
আজ, জোধপুরি সাফা কেবল রাজস্থান নয়, বরং সারা ভারতেই বিবাহ অনুষ্ঠানের একটি অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। বর থেকে শুরু করে বরযাত্রী—সকলেই এখন নিজেদের পোশাকের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী সাফা পরতে আগ্রহী, বিশেষ করে রাজস্থানী থিমের বিয়েতে। শিল্পীরা জানিয়েছেন, বিয়ের মরসুমে সাফা বাঁধার জন্য তাঁদের বুকিং কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সম্পূর্ণ হয়ে যায়, যা এই শিল্পের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।