বিহারে মহা-পরিবর্তন? রেকর্ড ভোট নিয়ে এনডিএ বনাম বিরোধীদের তুমুল লড়াই, পাল্লা ভারী কার?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় হওয়া ঐতিহাসিক ভোটিং রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিহারে ভোটের হার এত বেশি হলো, যা দেখে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশন শনিবার জানিয়েছে, প্রথম দফায় মোট ৬৫.০৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই রেকর্ড ভোটিংকে যেখানে বিরোধী দলগুলি ‘বদলের ইঙ্গিত’ হিসাবে দেখছে, সেখানে শাসক জোট এনডিএ (NDA) একে তাদের পক্ষে ‘শক্তিশালী জনসমর্থন’ বলে দাবি করছে।
ভোটের এই বিপুল বৃদ্ধিকে কেউ কেউ ‘শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ঢেউ’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষেই জনসমর্থন বলে মনে করছেন। রেকর্ড সংখ্যক এই ভোটিং আপাতদৃষ্টিতে কোনো নিশ্চিত ফল না দেখালেও, ১৪ নভেম্বর যখন বিহার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে, তখন এর গভীর প্রভাব দেখা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন এখনও প্রথম দফায় পুরুষ ও মহিলাদের ভোটিংয়ের লিঙ্গ অনুপাত প্রকাশ করেনি। এই অনুপাত প্রকাশ হওয়ার পরই বোঝা যাবে, এই রেকর্ড ভোটিংয়ে মহিলাদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল না পুরুষের।
পরিবর্তনের আশায় বিরোধীরা ভোটের হার বাড়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা চলছে। বিরোধী দলের বহু নেতা দাবি করেছেন যে ভোটার টার্নআউটের এই বৃদ্ধি স্পষ্টতই ক্ষমতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, জন সুরাজ-এর আহ্বায়ক প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) বলেছেন যে বেশি ভোট পড়লে তাঁর দল সুবিধা পাবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি (BJP) নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে জানিয়েছেন, “এনডিএ (NDA)-র পক্ষে বিপুল জনসমর্থন মিলবে এবং এই বিপুল ভোট তারই প্রমাণ।” তিনি আরও বলেন যে বিহারের বিগত নির্বাচনগুলিও এই সত্য প্রমাণ করেছে। উল্লেখ্য, বিজেপি এবং জেডিইউ (JDU) জোট বিহারে ফের ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে।
রেকর্ড ভোটের নেপথ্যে বড় কারণ: পরিযায়ী শ্রমিক ও যুব সমাজ এই বছর বিহার নির্বাচন এমন সময়ে হয়েছে, যখন রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ছট পূজা চলছে। ফলে, রাজ্যে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ ভোটদানে অংশ নিতে পেরেছেন। সাধারণত রোজগারের খোঁজে বিহারের বহু মানুষ রাজ্যের বাইরে থাকেন। উৎসবের কারণে তাঁরা রাজ্যে থেকে যাওয়ায় ভোট বেশি পড়েছে। এর পাশাপাশি, এই নির্বাচনে তরুণ এবং যুব সমাজও বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়ে ভোট দিয়েছেন, যা ভোটিংয়ের হার বাড়াতে সাহায্য করেছে। কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এবারের ভোটে অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল।