SIR-এর চাপ, ভোটার তালিকা সংশোধনের আবহে দেশে ফেরার হিড়িক! এক সপ্তাহে ৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়া (SIR – Special Enrolment Revision) শুরু হতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গত এক সপ্তাহ ধরে চোরাপথে নিজেদের দেশে (ওপার বাংলায়) পালাতে গিয়ে বিএসএফ-এর হাতে ধরা পড়েছেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। এই ঘটনার পর সীমান্তে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BSF) তৎপরতা আরও বেড়েছে।
মাত্র তিন দিনে ধরা পড়ল ৯৪ জন
স্বরূপনগরের বিথারী ও তারালি সীমান্ত দিয়ে ওপার বাংলায় পালানোর সময় বিএসএফ-এর হাতে ধরা পড়েছেন অনেকে।
২ নভেম্বর: ১১ জন আটক।
৩ নভেম্বর: ৪৫ জন আটক (এর মধ্যে অন্তত ১০ জন শিশু ছিল)।
৪ নভেম্বর: ৩৮ জন আটক।
সব মিলিয়ে, নারী, পুরুষ ও শিশু সহ মাত্র তিন দিনে মোট ৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ।
কলকাতার রাজারহাট থেকে পালাতে মরিয়া
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক। SIR চালু হওয়ার ঘোষণা হতেই নিজেদের দেশে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে এই অনুপ্রবেশকারীরা।
কোথায় থাকত: বেশ কয়েক বছর আগে চোরাপথে ভারতে ঢুকেছিলেন এই নাগরিকেরা এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কাজে যুক্ত ছিলেন। ইদানিং তাঁরা কলকাতা ও রাজারহাট অঞ্চলে থাকতে শুরু করেছিলেন।
পালানোর কারণ: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে তাঁরা রাতের অন্ধকারে তারালি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল। তাঁদের বাড়ি ওপার বাংলার সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এলাকায়। কারও কাছেই বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
বিএসএফ-এর তৎপরতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
সীমান্তে আটক বাংলাদেশিদের তুলে দেওয়া হয়েছে স্বরূপনগর থানার পুলিশের হাতে। এই ঘটনা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বিজেপি-র দাবি: গেরুয়া শিবিরের দাবি, এমন বহু অনুপ্রবেশকারী এই বাংলায় আশ্রয় নিয়ে ভোট দিচ্ছে। এসআইআর হলে তারা ধরা পড়বে এবং এক জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরও এদেশে জায়গা হবে না।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: শাসকদল তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকার ও বিএসএফ-কে আক্রমণ করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, “বাংলাদেশি নাগরিকরা যখন অনুপ্রবেশ করেছিল, তখন বিএসএফ কোথায় ছিল? বিএসএফ কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল? নাকি টাকাপয়সা খেয়ে এঁদের আশ্রয় দিয়েছিল?” তাদের বক্তব্য, আইন মেনে যা শাস্তি হওয়ার তা হবে, কিন্তু অনুপ্রবেশ কেন হচ্ছে, তা বড় প্রশ্ন।
এই ঘটনার পর সীমান্তে সুরক্ষায় আরও তৎপর হয়েছে বিএসএফ। বিশেষ করে কাঁটাতার নেই এমন এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।