‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ কার লেখা? প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে লেখক গুলিয়ে ফেললেন বিরোধী দলনেতা, জনসভায় চর্চা শুরু

একসময় হাওয়া বদলের জন্য বাঙালি যেতো পশ্চিমের জঙ্গলে। সেই জঙ্গল, আদিবাসী জীবন আর শহুরে বাঙালির দ্বন্দ্ব নিয়ে দিকপাল বাঙালি সাহিত্যিকরা সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য। সত্যজিৎ রায় তৈরি করেছিলেন সিনেমা—‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। তবে এই উপন্যাসের লেখক কে, তা নিয়েই বড়সড় বিভ্রাটে পড়লেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সামনে ঘাটশিলা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। বৃহস্পতিবার সেখানেই প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সার্কাস ময়দানের জনসভায় হিন্দি ও বাংলার মিশেলে ভাষণ দেওয়ার সময় বাঙালি আবেগ উস্কে দিতেই তিনি প্রসঙ্গ তোলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর সেখানেই বিপত্তি।
বক্তব্যের শুরু এবং শেষে বারবার শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ উপন্যাসটি লিখেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তথ্য বলছে, এই জনপ্রিয় উপন্যাসটির লেখক হলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিজে মাত্র ১৫-১৬ দিনের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে উপন্যাসটি লিখেছিলেন, যা ১৯৬৮ সালের দেশ পুজো সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করেই সত্যজিৎ রায় ১৯৭০ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
সাহিত্যপ্রেমী বাঙালির কাছে স্পষ্ট যে, ঘাটশিলার উপর ভিত্তি করে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে বিখ্যাত উপন্যাসটি রয়েছে, সেটি হলো ‘আরণ্যক’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপনির্বাচনের প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী হয়তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ উপন্যাস দুটিকে গুলিয়ে ফেলেছেন। তাঁর এই ভুল মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে হাসির রোল উঠেছে।