SIR আতঙ্ক নেই ছিটমহলবাসীদের! ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার মানুষ কেন নিশ্চিন্ত?

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ শুরু হওয়ার পর যখন বিভিন্ন প্রান্তে আতঙ্ক এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে, তখন এর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা গেল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। কোচবিহারের হলদিবাড়ির ছিটমহল থেকে আসা বাসিন্দারা SIR নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। কারণ, তাঁদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে সুরাহা হয়েছে।
২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই, তবুও নিশ্চিন্তের কারণ
যে ৪১১টি পরিবারের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা একসময় ছিটমহলের বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি (Land Boundary Agreement) হয় এবং ছিটমহল বিনিময় হয়। সেই চুক্তির মাধ্যমেই বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা এদেশে এসে বসবাস শুরু করেন।
স্বাভাবিকভাবেই, তাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। তবুও তাঁদের নিশ্চিন্ত থাকার প্রধান কারণ:
স্পেশাল গ্রাউন্ডে নাগরিকত্ব: মেখলিগঞ্জ সদরের মহকুমা শাসক অতনুকুমার মণ্ডল জানান, যাঁরা ২০১৫ সালে চুক্তির পর ভারতে এসেছেন, তাঁদের কাছে টেম্পোরারি ট্রাভেল কাম আইডেন্টিটি পাশ আছে। দুই দেশের সরকার চুক্তি করে তাঁদের স্পেশাল গ্রাউন্ডে নাগরিকত্ব দিয়েছে।
সরকারি নথি: ছিটমহল বিনিময় কমিটির ভারতের পক্ষের দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, “তাঁদেরকে সরকারের থেকে বৈধ কাগজ-সহ সব রকমের নাগরিকত্ব বা সরকারি নথি সরকার করে দিয়েছে। তাঁরা কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করেননি।”
বিএলও যখন তাঁদের বাড়িতে যাবেন, তখন এই ট্রাভেল পাশ বা সরকারি নথি দেখালেই SIR-এর ক্ষেত্রে তাঁদের সব কাজ হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসনের কাছেও তাঁদের তালিকা আছে।
ছিটমহলবাসীদের প্রতিক্রিয়া: ‘আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নই’
ছিটমহল থেকে ভারতে আসা বাসিন্দারা এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সুশীল রায় বলেন, “SIR হোক, খুব ভালো। অবৈধভাবে থাকা লোকেদের বাদ দিক। দেশের জন্য মঙ্গল হবে। আমরা ট্রাভেল কার্ডের মাধ্যমে ভারতে এসেছি… আমাদের রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ বার্থ সার্টিফিকেট করে দিয়েছে সরকার। যাঁদের কাছে ট্রাভেল কার্ড আছে, তাঁদের কোনও সমস্যাই নেই।”
কৃষ্ণা রায় জানান, “আমরা SIR-কে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা কেউ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নই। সরকার আমাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। ফলে আমাদের কাছে বৈধ সব কাগজই আছে।”
তবে, কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার মশালডাঙার মতো কিছু সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ, তাঁদের একাংশ কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে থাকা ছিট থেকে ট্রাভেল পাশ নিয়ে আসেননি, বরং এই ভূখণ্ডেই ছিলেন। জয়নাল আবেদিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, যেহেতু তাঁদের কারও নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, তাই অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। যদিও তাঁর দাবি, ভারত সরকারের দেওয়া সমস্ত বৈধ কাগজ তাঁদের কাছে আছে।