মনোহর আইচ-মনোতোষ রায়ের স্মৃতি! ১০০ বছরের পুরোনো ক্লাবে আজও হয় কুস্তি-যোগাসন, চাঁদা মাত্র ১০০ টাকা!

সময়টা ব্রিটিশ ভারতের। তখন থেকেই বাঙালি যুবকদের শরীরচর্চার প্রতি তীব্র ঝোঁক ছিল। সেই ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর নবাবগঞ্জের ‘নবীন সংঘ ব্যায়াম শিক্ষা কেন্দ্র’। ১৯৩৯ সালে ক্লাবটি খাতায়-কলমে স্থাপিত হলেও, স্থানীয়দের মতে প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে শরীরচর্চা চলছে। এই ক্লাবের শরীরচর্চার জন্য এক স্থানীয় মহিলা জায়গা দান করেছিলেন।

ঐতিহ্যই এখানকার বিশেষত্ব

নবীন সংঘ বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী শরীরচর্চার ধারা ধরে রেখেছে, যেখানে জিমের আধুনিক পরিকাঠামো নয়, বরং পুরনো আমলের কুস্তি, যোগাসন, এবং পাওয়ারলিফটিং-এর উপর জোর দেওয়া হয়। ক্লাবের সম্পাদক রাজেশ কুমার শর্মা এবং অন্য সদস্যরা জানালেন, এই অঞ্চলের এমন কোনো পরিবার নেই, যার কোনো সদস্য এখানে শরীরচর্চা করেননি। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদেরও শরীরচর্চা চলে এখানে।

একসময় মনোহর আইচ (Manohar Aich) ও মনোতোষ রায়ের (Monotosh Roy) মতো দিকপাল বডিবিল্ডাররা এই ক্লাবে শরীরচর্চা করতেন। এমনকি একসময় বিমানবাহিনীর সদস্যরাও এখানকার উন্নত পরিকাঠামোর কারণে এখানে আসতেন। ক্লাবের সদস্য প্রদীপ মিত্র ও সুদীপ সূত্রধরের মতো ষাটোর্ধ্বরাও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিতেছেন, এবং প্রণয় চক্রবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জিতেছেন সোনা। জাতীয় স্তরেও সাফল্য এনেছেন প্রসেনজিৎ সাবুই, সুনির্মল মজুমদার ও লক্ষ্মণ রাজবংশীর মতো সদস্যরা।

বছরে মাত্র ১০০ টাকা চাঁদা

সকলের কথা মাথায় রেখে ক্লাবের চাঁদার হার এখনও নামমাত্র রাখা হয়েছে—বর্তমানে মাসিক মাত্র ১০০ টাকা। আগে এই চাঁদা ছিল ৫০ টাকা। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখে মহাবীর পুজো হয় এবং তার পরই বডিবিল্ডিং, যোগাসন ও পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়।

আগামী রবিবার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতা, যেখানে ক্লাসিক বেঞ্চপ্রেস ও ডেডলিফট ইভেন্ট থাকবে।