শুভেন্দু অধিকারীর মামলা, বিজেপি নেতাদের ওপর হামলার স্থানে ২০০ মিটার নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন,

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা-মন্ত্রীদের উপর একাধিক জায়গায় হামলা বা আক্রমণের ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মামলায় তিনি আবেদন করেছেন যে, বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা যেখানে যাবেন, সেই স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে তৃণমূল কর্মী ও দুষ্কৃতীদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুক পুলিশ।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা গ্রহণ করে এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। যেহেতু বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন, তাই আগামী ১০ দিনের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ১২ নভেম্বর এই আবেদনের বিস্তারিত শুনানি হবে।

আবেদনে NIA এবং CBI তদন্তের দাবি
বিরোধী দলনেতার পক্ষের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য এদিন মামলার শুনানিতে বিজেপি নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন:

হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি: “বিজেপি নেতাদের উপরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা নেতা নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।”

নিরাপত্তা প্রোটোকল: তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করার দাবি জানান যে কনভয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রোটোকল কতটা মানা হচ্ছে।

NIA/CBI তদন্ত: আইনজীবী সন্দেশখালিতে ইডি (ED) অফিসারদের ওপর আক্রমণের ঘটনা টেনে এনে বলেন, এখনও পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে, তার সব ক’টির ক্ষেত্রে এনআইএ (NIA)-কে নির্দিষ্ট (সিডিউল অফেন্সের) কারণে তদন্তভার দেওয়া হোক। পাশাপাশি, সিবিআই (CBI)-কেও তদন্তে রাখা হোক।

বিল্বদল ভট্টাচার্য আরও বলেন, বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের নিরাপত্তা পেলেও পুলিশের নিরাপত্তা কাজ না-করায় হামলার ঘটনা ঘটছে।

রাজ্যের পাল্টা অভিযোগ
রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলার বিরোধিতা করে বলেন, “রাজনৈতিক বিষয়কে জনস্বার্থ মামলার মোড়কে আদালতে আনা হচ্ছে। সন্দেশখালির ঘটনা একটা ঘটেছিল। সেটা সামনে রেখে বিজেপি গোটা রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।” তিনি জানান, রাজ্য এই ব্যাপারে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে আগ্রহী।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দেয়।