২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, জেনেনিন কী জানাল কমিশন?

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধনের আগেই বিতর্কের ঝড়! ২০০২ সালের ভোটার তালিকা আপলোড ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার’ গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল তৃণমূলের এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন এবং এর জন্য সার্ভার আপগ্রেডেশনকেই দায়ী করেছেন।

তৃণমূলের অভিযোগ: ‘৭১৭ থেকে ১৪০! বাকিরা গেল কোথায়?’
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশনকে তীব্র নিশানা করেন।

কুণাল ঘোষের অভিযোগ: তিনি দাবি করেন, কমিশনের সাম্প্রতিক আপলোডে ২০০২ সালের তালিকায় থাকা বহু ভোটারের নাম ‘চুপিচুপি’ মুছে দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণ: তিনি কোচবিহারের নাটাবাড়ির বুথ নম্বর ২-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, পুরোনো তালিকায় যেখানে ৭১৭ জনের নাম ছিল, কমিশনের সাইটে এখন সেই বুথে মাত্র ১৪০টি নাম দেখাচ্ছে। একই গরমিল ধরা পড়েছে মাথাভাঙার ৬০ নম্বর বুথেও, যেখানে ৮৪৬ জনের নামের বদলে এখন রয়েছে ৪১৬ জনের নাম।

চক্রান্তের অভিযোগ: কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “এটা কাকতালীয় নয়, এটা পরিকল্পিত। বিজেপির অফিসে বসেই এই চক্রান্ত হয়েছে, আর সেই চক্রান্ত বাস্তবায়ন করছে নির্বাচন কমিশন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি নেতারা আগে থেকেই কীভাবে জানলেন যে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে।

কমিশনের জবাব: ‘সার্ভার আপগ্রেডেশন চলছে, ২-৩ দিনে সব ঠিক হবে’
তৃণমূলের এই সব অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভোটার তালিকা আপগ্রেড করা হয়নি, বরং সার্ভার আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া চলছে।

💬 মনোজ আগরওয়াল জানান: “কিছু লোক জানেন না যে ECI ওয়েবসাইটটি NIC দ্বারা হোস্ট করা হয়েছিল এবং এটি ভারত সরকারের অধীনে। ভারত সরকার সার্ভার আপগ্রেড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে… যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি করার জন্য আমরা অর্থ এবং সকলের অনুমোদন নিয়েছি। সব কিছু আপগ্রেড করা হবে। ২-৩ দিনের মধ্যে ট্রান্সফার প্রক্রিয়া করা হবে।”

তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ৫ নভেম্বর থেকে ফর্ম জমা দেওয়া শুরু হওয়ার আগেই সার্ভার আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

ভোটারদের জন্য জরুরি খবর! কবে থেকে শুরু হচ্ছে এসআইআর?
তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের জবাবের মধ্যেই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরু হওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে কমিশন:

ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহ: ৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে গণনা ফর্ম (Enumeration Form) বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

সময়সীমা: এই প্রক্রিয়া চলবে ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

নিয়ম: এই গণনা পর্বে পূরণ করা ফর্ম সই করে জমা দিলেই খসড়া ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। এই সময় ফর্মের সঙ্গে কোনো নথি জমা করার প্রয়োজন নেই।

নথি জমা: শুধুমাত্র খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নোটিশ জারি হলে সেই অনুযায়ী গণনা ফর্মে উল্লিখিত যে কোনও নথি জমা করতে হবে।

আপনার নাম তালিকায় আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে বা সংশোধনের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।