৯৫ বছরের বৃদ্ধের আত্মহত্যায় আবেগঘন মুখ্যমন্ত্রী, “বাংলার বুকে এনআরসি হতে দেব না!”, সোশাল মিডিয়ায় কড়া হুঁশিয়ারি

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হতেই একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য সরাসরি বিজেপি-র রাজনীতিকে দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি-র নির্দেশে জোর করে চাপানো এসআইআর প্রক্রিয়া রাজ্যজুড়ে ‘ভয়, বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক’ ছড়িয়েছে।
বুধবার বিকেলে সোশাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে তিনটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যা মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বর্ণনায়:
২৭ অক্টোবর, খড়দহের পানিহাটিতে ৫৭ বছর বয়সি প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেন এবং সুইসাইড নোটে ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এনআরসি’ লিখে যান।
২৮ অক্টোবর, কোচবিহারের দিনহাটায় এক ৬৩ বছরের বৃদ্ধ এসআইআর-এর ভয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আজ (৩০ অক্টোবর), পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালির ৯৫ বছর বয়সি ক্ষিতীশ মজুমদারও নিজের জীবনাবসান ঘটান জমি-জায়গা হারানোর আতঙ্কে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলির নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, এর দায় কে নেবে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি বিজেপি? তিনি তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লেখেন, “৯৫ বছর বয়সি একজন নাগরিক নিজের জীবন দিয়ে এই মাটিকে ভালোবেসেছেন। তাঁকে দেশের নাগরিক প্রমাণ করতে গিয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হল… মানবতার প্রতি এর চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কী হতে পারে?”
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, এসআইআর-এর মোড়কে বাংলায় এনআরসি চাপিয়ে দিয়ে রাজ্যের সামাজিক সাম্যতা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন, “আমরা বাংলায় কোনওভাবেই এনআরসি কার্যকর হতে দেব না। বাংলার মানুষের অধিকার বাঁচাতে রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত আমরা লড়ব এবং বিজেপি ও তাদের সহযোগীদের সমাজবিধ্বংসী নীতিকে ব্যর্থ করে দেব।”
নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর-কে নিয়মিত প্রক্রিয়া বললেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুটি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।