ফের বিএলও নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগ শুভেন্দুর! সরাসরি তৃণমূল-ঘনিষ্ঠের নাম উল্লেখ করে নালিশ

রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) নিয়োগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বেনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের একবার সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি তাঁর তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। সেই আবহেই এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের ২৪ নং বুথের বিএলও নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “সহদেব মহাপাত্র পেশায় পার্শ্বশিক্ষক এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি তাঁকে নারায়ণগড়ে বিএলও হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যেখানে আরও একাধিক শিক্ষক ও আইসিডিএস কর্মী ছিলেন, তারপরেও কেন তাঁকেই বিএলও হিসাবে নিযুক্ত করা হলো?”

বিরোধী দলনেতার আরও সংযোজন, ওই নির্দিষ্ট বুথেই দুই প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক ও দুই আইসিডিএস কর্মী-সহ মোট ৪ জন সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের পেরিয়ে কেন সহদেবকে নিয়োগ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দ্রুত এই ঘটনায় পদক্ষেপ করার এবং ওই বিএলও-কে বদলি করে অন্য কোনও যোগ্য প্রার্থীকে নিযুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে, শুভেন্দুর এই অভিযোগকে ‘অমূলক’ বলে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে শাসকদল। তৃণমূল ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “বিজেপি বাংলার সব জায়গাতেই নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগ দেখতে পায়। বাংলা ছাড়া ভারতবর্ষের আর কোথাও তাঁদের বেনিয়ম চোখে পড়ে না। বিএলও নিয়োগে কোনও বেনিয়ম ঘটেনি। সবটাই কমিশনের নিয়ম মেনেই হয়েছে। ওঁদের সমস্যা থাকলে দিল্লিতে কমিশনের কাছে জানাক।”

প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের ৮৭ নং বুথের বিএলও মহম্মদ আলাউদ্দিন মোল্লাকে শুভেন্দুর অভিযোগের ভিত্তিতেই পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ছিল, আলাউদ্দিন ‘ফুল-টাইম’ তৃণমূল কর্মী, সরিসার অঞ্চল সভাপতি এবং তাঁর স্ত্রীও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সেই ঘটনার পর নারায়ণগড়ের এই নতুন অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার উত্তেজনা তৈরি হলো।