ঝাল মিষ্টির ফিউশন! চিনি-গুড়ের দিন শেষ, বর্ধমানের দোকানে এবার মিলছে কাঁচা লঙ্কার স্বাদের ‘চিলি রসগোল্লা’

বাঙালি মানেই রসগোল্লা, আর রসগোল্লা মানেই রসে ভরা মিষ্টি ছানার গোল্লা। কিন্তু সেই চিরাচরিত ধারণাকে এবার ভেঙে দিল বর্ধমান। যদি সেই মিষ্টি রসগোল্লায় পান ঝালের স্বাদ, তবে কেমন হয়? ঠিক এমনই অভিনব স্বাদের ‘চিলি রসগোল্লা’ নিয়ে এসেছে বর্ধমানের এক বিখ্যাত মিষ্টির দোকান।

বর্ধমানের বিসি রোডে অবস্থিত নেতাজি মিষ্টান্ন ভান্ডার রসগোল্লায় নতুনত্ব আনতে তৈরি করেছে এই কাঁচালঙ্কার রসগোল্লা। এই ‘মিঠা মে তিখা’ ফিউশন ইতিমধ্যে মিষ্টিপ্রেমী মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা নিতে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ভিড় করছেন দোকানে।

যেমন করে এল নতুন স্বাদ: দোকানের স্বত্বাধিকারী সৌমেন দাস জানান, এই অভিনব রসগোল্লার জন্ম হয় ২০১৭ সালে। সে বছর কলকাতার বাগ বাজারে একটি রসগোল্লা উৎসবের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানেই তিনি প্রথম এই চিলি রসগোল্লা তৈরি করে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সেই সাফল্যের পরই তিনি দোকানে এটি বিক্রি করা শুরু করেন।

জানা গেছে, আচারের লঙ্কা, কাঁচা লঙ্কা, কিউই ফলের পাল্প এবং ছানার সঠিক মিশ্রণে তৈরি করা হয় এই ‘চিলি রসগোল্লা’। এই অভিনব ফিউশন মিষ্টিপ্রেমীদের জন্য এক ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।

সুগার রোগীদের জন্যও সুখবর: সাধারণত, মিষ্টির কারণে সুগারের রোগীরা রসগোল্লা থেকে নিজেদের দূরে রাখেন। তবে এই চিলি রসগোল্লায় মিষ্টির পাশাপাশি ঝালের স্বাদ থাকায়, এটি সুগারের রোগীদের জন্যও নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ঝাল এবং মিষ্টির পারফেক্ট ভারসাম্য এই মিষ্টিকে করেছে জনপ্রিয়।

রসগোল্লার চিরাচরিত ধারণাকে ভেঙে দিয়ে, বর্ধমানের এই চিলি রসগোল্লা প্রমাণ করল যে স্বাদের নতুনত্বে কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। এই অভিনব মিষ্টির স্বাদ নিতে হলে অবশ্যই একবার ঢুঁ মারতে পারেন নেতাজি মিষ্টান্ন ভান্ডারে।