“জামাতের সরকার”! কালীপূজার বিসর্জনে পুলিশি ‘অত্যাচার’, চরম আক্রমণ শানিয়ে তোলপাড় ফেলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

কালীপূজার বিসর্জন পর্ব মেটার পরই রাজ্য-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। এবার রাজারহাটে বিসর্জনের সময় পুলিশি ‘অত্যাচার’ ও ‘বাড়াবাড়ির’ অভিযোগ তুলে সরাসরি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি শাসক দলকে ‘জামাতের সরকার’ বলেও মারাত্মক আক্রমণ করেছেন।

সূত্রের খবর, রাজারহাট এলাকায় কালীপূজার বিসর্জন প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। সেই অসন্তোষকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের তরফ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে এবং বিসর্জন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, “রাজারহাটে যা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই তৃণমূল সরকার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে এবং সংখ্যাগুরুদের উৎসবে হস্তক্ষেপ করছে। এরা আর তৃণমূল সরকার নেই, এটা পুরোপুরি ‘জামাতের সরকারে’ পরিণত হয়েছে।”

বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরই রাজ্য-রাজনীতিতে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করছেন এবং তাঁর মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎসবের সময় এই ধরনের পুলিশি কার্যকলাপের অভিযোগ এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতার এই চরম ‘জামাতের সরকার’ আখ্যা দেওয়া—আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও তীব্র করে তুলবে। রাজারহাটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে তৃণমূল-বিজেপি বাকযুদ্ধ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।