‘মাতাল তোমার জন্য যে…’ মন্ত্রীর পোস্টে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! SP বদলি হতেই কেন মান্না দে-কে স্মরণ?

কোচবিহারে বাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে লাঠিচার্জের ঘটনায় সরগরম ছিল রাজ্য রাজনীতি। খোদ পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের একাংশ লাঠি চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও পুলিশ নিয়মবহির্ভূতভাবে বাজি পোড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছিল। এর মধ্যেই কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে বদলি করা হল।

প্রশাসনিক মহলে এটিকে রুটিন বদলি বলা হলেও, রাজনৈতিক মহলে এই বদলির সঙ্গে বাজি কাণ্ডের যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে। এই আবহেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়কের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মন্ত্রীন মান্না দে-কে স্মরণ:

মন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মান্না দে-র বিখ্যাত গানের লাইন ব্যবহার করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি লিখেছেন: “যাই হোক মান্না দের কথাতেই বলি, যখন তুমি আমায় মাতাল বলো ,ধন্য যে হয় এ মাতলামি। ধন্য আমি ধন্য হে, মাতাল তোমার জন্য যে। ভাল থেকো গ্লাস ফ্রেন্ড।”

এই প্রসঙ্গের অবতারণা কেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি বাজি কাণ্ড প্রসঙ্গে লিখেছেন: ‘বাজি কাণ্ডে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে যে কথা বলেছিলাম, ভালে মন্দ মিশিয়েই মানুষ, কোচবিহারের SP তেমনি দোষ গুণ মিলিয়েই একজন মানুষ। তবে তিনি মারকুটে নন। যদি লাঠি চালানোর ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সেটা না হলেই ভালে হতো।’

পাশাপাশি, শব্দ বাজি বন্ধের জন্য যারা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন, তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘শব্দ বাজি সরকার বন্ধ করেনি, সরকার শব্দ বাজি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে। যারা শব্দবাজির পক্ষে তারা তাদের মতামত কোর্টে জানালে পারতেন।’

সমালোচকদের পাল্টা জবাব মন্ত্রীর:

এর পরেই মন্ত্রী নিজের সমালোচকদের দিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘আমার এই ব্যক্তিগত মতামত গুলো অনেকের পছন্দ হয়নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে চোর বা মাতাল বলেছেন। যারা চোর বলেছেন তাদের বলব দয়া করে অভিযোগটা পুলিশকে জানান। মন্ত্রী বলে পুলিশ যদি অভিযোগ না নিতে চায়, সরাসরি কোর্টে যান। প্রমাণ থাকলে কিছু একটা শাস্তি হবেই।’

নিজেকে ‘মাতাল’ বলার প্রসঙ্গে তিনি রসিকতার সুরে জানান, ‘আমি হয়ত দেখতে মাতালের মতো বা আমার কথাবার্তা মাতালদের মতো অসংলগ্ন বলে অনেকে মাতাল বলেছেন। তাদের জানাই আমি সকালে স্নান সেরে এক কাপ লিকার চা খাই… সারাদিনে আর চা খাই না। …পান খাই না, তবে কথা বলতে গিয়ে বিশু ধরদের মুখের পানের ছিটে অনেক সময় জামায় লাগে, সেটা যদি খাওয়া হয় তবে কিছু করার নেই। ধুমপান করি না… আমি প্যাসিভ স্মোকার… মদ্যপান করি না। তবে চাট খেতে খুব ভাল লাগতো। অন্যরা মদ্যপান করতো, আমি তাদের চাট গুলো খেয়ে ফেলতাম… এখন সেটাও বন্ধ। বাইরে কিছু খাইই না।’ মন্ত্রীর এই পোস্ট বাজি কাণ্ডের আবহে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।