তেজস্বীকেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ বেছে নিল মহাগঠবন্ধন, তবে আসন নিয়ে এখনও জট

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে আসন সমঝোতা নিয়ে মহাগঠবন্ধনে টানাপোড়েন চললেও, বিরোধী দলগুলি সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলল। সূত্র মারফত খবর, আরজেডি (RJD) নেতা তেজস্বী যাদবই হতে চলেছেন বিহারের ভোটে INDIA জোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মহাগঠবন্ধনের সব শরিক দলই তেজস্বীকে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবারই তেজস্বীর নেতৃত্বে বিহারের ভোটে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করতে পারে মহাগঠবন্ধন। এর পাশাপাশি জোটের নয়া স্লোগানও ঘোষণা করা হবে। নতুন স্লোগানটি হল— ‘চলো বিহার, বদলে বিহার’ (অর্থাৎ, ‘চলো বিহার যাই, চলো বিহার বদলাই’)।
গেহলটের ‘ফ্রেন্ডলি ফাইট’ তত্ত্ব: মহাগঠবন্ধনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে জট কাটাতে বুধবার পটনায় পৌঁছেছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট। তিনি আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব এবং তেজস্বী যাদবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অশোক গেহলট জোটের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে লঘু করে দিয়ে বলেন, “জোটের মধ্যে কোনও জট নেই। এগুলো ফ্রেন্ডলি ফাইট (Friendly Fights)। ৫-১০টি আসন কোনও বড় ব্যাপার নয়।” বৈঠক শেষে তেজস্বী যাদবও এক্স পোস্টে গেহলটের সঙ্গে আলোচনাকে ‘সার্থক’ বলে উল্লেখ করেন।
আসনের কাঁটা: এখনও ৬ আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা! মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোট শরিকদের মধ্যে আলোচনা চলেছে। জানা গিয়েছে, আরজেডি এবং কংগ্রেসের মধ্যে এখনও ডজনখানেক আসন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। সূত্র বলছে, বাছওয়ারা, রাজাপাকর এবং বিহার শরিফ-এর মতো আসনগুলি নিয়েও সমস্যা ছিল। যদিও এই আসনগুলি থেকে নাম প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, লালগঞ্জ থেকে কংগ্রেস তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। খবর মিলেছে, কাটিহারের প্রাণপুর আসন নিয়েও আরজেডি ও কংগ্রেস অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
তবে সব জট কাটেনি। শেষ পর্যন্ত ৬টি আসনে INDIA জোটের দুই শরিক দল, অর্থাৎ আরজেডি ও কংগ্রেস, একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত আরজেডি ১৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের ৬১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে।
টিকিট কেনাবেচার অভিযোগ: এর মধ্যেই জোটের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের কর্মীরাই বিহারে কংগ্রেসের ইন চার্জ কৃষ্ণা আল্লাভারু এবং রাজ্য সভাপতি রাজেশ রামের বিরুদ্ধে ভোটের টিকিট কেনাবেচার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। এই অভিযোগের জেরে নির্বাচনী আবহে অস্বস্তিতে পড়েছে জাতীয় দল।