ইতিহাস সৃষ্টি! অবশেষে ভুটানে যাচ্ছে ভারতীয় রেল, ৪০৩৩ কোটির প্রকল্পে সবুজ সংকেত! কবে থেকে ছুটবে ট্রেন?

ভারত ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগের পথে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ড এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে ৪০৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে কেবল বাণিজ্য নয়, পর্যটন ও সামরিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।
বুধবার আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম (Divisional Railway Manager) দেবেন্দ্র সিং এই প্রকল্প নিয়ে সুখবর শোনান। তিনি জানান, রেলপথ নির্মাণের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভে ও প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
কোন পথে তৈরি হবে নতুন রেলপথ?
ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের মঞ্জুরি অনুযায়ী, মোট দুটি রেলপথ নির্মাণের জন্য এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে:
১. প্রথম রেলপথ: অসমের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গ্যালিফু পর্যন্ত ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। ২. দ্বিতীয় রেলপথ: পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বানারহাট থেকে ভুটানের সামচে পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ।
এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের মাধ্যমেই ভারত ও ভুটানের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং নিশ্চিত করেছেন যে, “দ্বিতীয় পর্যায়ের রেলপথ নির্মাণের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
বাণিজ্য থেকে পর্যটন, কী কী সুবিধা পাবে দুই দেশ?
বর্তমানে রেলপথের সংযোগ না থাকায় দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহণে সীমাবদ্ধতা ছিল। এই প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশ বহুবিধ সুবিধা পাবে:
বাণিজ্যিক উন্নতি: উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যিক পরিবহণ দ্রুত হবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পথ উন্মোচন করবে।
পর্যটন খাতে বৃদ্ধি: রেলপথ চালু হওয়ায় পর্যটকরা সহজে ভুটান ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সামরিক সহায়তা: সামরিক পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হবে, যা দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।
পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি: রেলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সাথে ভুটানের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।