বাজি ফাটানোয় ‘মারমুখী এসপি’! লাঠিচার্জে রক্তারক্তি কোচবিহার, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ! ১০ জন গ্রেফতার, ৩ জন মহিলা আইনজীবীর জামিন

কালীপুজোর রাতে শব্দবাজি ফাটানো এবং পরবর্তীতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় মঙ্গলবার থেকে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল কোচবিহার। সরাসরি পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুদের মারধরের অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে হওয়া অবরোধেও ফের লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
কী ঘটেছিল কালীপুজোর রাতে?
অভিযোগ, কালীপুজোর রাতে রেলঘুমটি এলাকায় পুলিশ সুপারের বাংলোর সামনে লাগাতার শব্দবাজি ফাটানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য ‘মারমুখী’ হয়ে ওঠেন এবং বাজি ফাটানোর অভিযোগে স্থানীয় শিশু ও মহিলাদের মারধর করেন। এই মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় মহিলা-শিশু সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, “অনেক রাত পর্যন্ত এলাকার লোকজন বাজি ফাটাচ্ছিলেন। ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রথমে বারণ করি, কেউ কথা শোনেননি। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”
অবরোধে লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ১০ জন:
এসপি-র বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কোচবিহার কোতোয়ালি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকাবাসী। কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে-র নেতৃত্বে চলে এই বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ। অভিযোগ, সেই অবরোধেও পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এই বাজি পোড়ানো ও অবরোধের ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এক মহিলা আইনজীবীসহ ৩ জন মহিলা ছিলেন। তাঁদের এদিন কোচবিহারের বিশেষ আদালত জামিন দিয়েছে। তবে মহিলা আইনজীবীর স্বামী পার্থ রায় সহ ৫ জনকে ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাকি ২ জনকে ২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ এবং পুলিশের বারবার লাঠিচার্জের ঘটনা জেলায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি করল।