মিরিকে পাহাড়ি রাস্তা থেকে খাদে পড়ল গাড়ি, ঘটনাস্থলেই হলো ৩ জনের মৃত্যু

মিরিক থেকে কাঁকড়ভিটা যাওয়ার পথে বুধবার দুপুরে নলদাঁড়ার কাছে এক মারাত্মক পথ দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যাত্রী বোঝাই একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি রাস্তার প্রায় ১৫০ ফুট নিচে খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নেপালের কাঁকরভিটা থেকে চালক সহ মোট ১৯ জন যাত্রী নিয়ে গাড়িটি মিরিকের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুপুর নাগাদ নলদাঁড়ার কাছে পাহাড়ি ঢালু পথ পার হওয়ার সময় সেটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়।

উদ্ধার অভিযানে গ্রামবাসী ও এক নিখোঁজ মা

দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা দেরি হলেও, স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সক্রিয় ভূমিকা নেন। গ্রামবাসীদের তৎপরতায় গাড়ির ভেতর আটকে থাকা এক শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শিশুটির মা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল।

পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গিয়েছে— তিনি হলেন ধন বাহাদুর কটওয়ার, নেপালের ধুলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

আহত ১৭, ভর্তি হাসপাতালে

ঘটনায় গুরুতর আহত ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনকে নকশালবাড়ি ব্লক হাসপাতালে এবং বাকিদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মিরিক মহকুমা হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেই সড়কে যা সম্প্রতি দুধিয়া সেতুর ক্ষতির কারণে মিরিক থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাতায়াতের প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বিকল্প এই পথে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং ঝুঁকির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাস্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। দুর্ঘটনাটি পাহাড়ি পথে যাতায়াতের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার অভাবকে আবারও সামনে এনেছে। পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে না।