“কেন দায়িত্ব নিতে অনীহা?”-রাজ্যের বিএলও-দেড় শোকজ নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (Special Summary Revision) আগে রাজ্যজুড়ে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) নিয়োগে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব নিতে অস্বীকার বা প্রশিক্ষণে অনুপস্থিতির কারণে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ১,০০০-এরও বেশি বিএলও-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) জারি করেছে। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ অফিসার জানিয়েছেন, “যে সমস্ত বিএলও নির্ধারিত সময়ে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি অথবা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেননি, তাঁদের নোটিশের মাধ্যমে কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।” কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই ধরনের উদাসীন আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই গাফিলতি সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নতুন ভোটার নিবন্ধন, নাম ও ঠিকানার সংশোধন এবং প্রতিটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজগুলি তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে করে থাকেন। সাধারণত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, গ্রুপ ‘সি’ স্তরের সরকারি কর্মচারী, অঙ্গনওয়াড়ি বা আশা কর্মীদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়।

বর্তমানে রাজ্যে ৭০,০০০-এরও বেশি বিএলও কর্মরত থাকলেও, কমিশনের লক্ষ্য অনুযায়ী এই সংখ্যাটি ৮১,০০০ ছুঁতে পারে। এমনকি, প্রতি বুথে ভোটারের সর্বোচ্চ সংখ্যা ১,৫০০ থেকে কমিয়ে ১,২০০ করা হলে, বিএলও-এর প্রয়োজন ৯০,০০০ হতে পারে।

সমস্যা তৈরি হয়েছে কর্মী সংকট এবং যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে। কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৬০ শতাংশ বিএলও-ই কমিশনের নতুন নির্ধারিত যোগ্যতা মানদণ্ড (যেমন শিক্ষক, গ্রুপ সি কর্মচারী ইত্যাদি) পূরণ করছেন না। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার বিএলও নিয়োগে আরও নমনীয়তার আবেদন জানিয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশন সর্বশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মানদণ্ডের সরকারি কর্মচারীর অভাব থাকলে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, চুক্তিবদ্ধ শিক্ষক অথবা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদেরও বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। আপাতত, শোকজ নোটিশের উত্তর পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।