ফুসফুসে জল জমার জের! ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত ‘ছোলে কি বাতেঁ’-র আসরানি, জানুন তাঁর শেষ ইচ্ছা

কিংবদন্তী অভিনেতা এবং জনপ্রিয় কমেডিয়ান গোবর্ধন আসরানি, যিনি শুধু আসরানি নামেই পরিচিত, তিনি সোমবার, ২০ অক্টোবর, দিওয়ালির রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। গত পাঁচ দিন ধরে স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে মুম্বইয়ের জুহুতে আরোগ্য নিধি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, অভিনেতার ফুসফুসে জল জমে গিয়েছিল, যা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রধান কারণ ছিল। দিওয়ালির রাতে এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বলিউড এবং আসরানির অগণিত ভক্তেরা গভীরভাবে শোকাহত।

নীরবে বিদায়: শেষ ইচ্ছা পূরণ করে মিডিয়ার নজর এড়িয়ে সৎকার
বলিউডের এত বড় একজন তারকার মৃত্যু হলেও তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত গোপনে এবং নীরবে। অভিনেতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তাঁর পরিবার শেষকৃত্য নিয়ে কোনো প্রকার জনসমক্ষে হইচই বা সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়নি।

পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, আসরানি চেয়েছিলেন তিনি যেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই স্মরণীয় হন এবং তাঁর বিদায় যেন হয় শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। ফলস্বরূপ, তাঁর স্ত্রী মঞ্জু আসরানির তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিবার সদস্যদের উপস্থিতিতে সান্তাক্রুজ শ্মশানে সোমবার সন্ধ্যাতেই তাঁর সৎকার সম্পন্ন হয়। সৎকারের পরই তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আনা হয়।

“হ্যাপি দিওয়ালি”: মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে শেষ পোস্ট, ভক্তদের মধ্যে দ্বিধা!
আসরানির প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় চরম চাঞ্চল্য। কিছুদিন আগেও তাঁর অসুস্থতা নিয়ে মিথ্যা গুজব রটেছিল। তাই, সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবরও বহু ভক্ত প্রথমে গুজব বলে উড়িয়ে দেন।

কিন্তু, তাঁদের সেই সংশয় কাটল অভিনেতার শেষ পোস্ট দেখার পর। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে আসরানি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শুধুমাত্র “হ্যাপি দিওয়ালি” লিখে পোস্ট করেছিলেন। এই পোস্টের পরই তাঁর মৃত্যুর খবর আসায় ভক্ত ও অনুরাগীরা শোকস্তব্ধ।

পাঁচ দশকের বর্ণময় ক্যারিয়ার: ‘ছোলে কি বাতেঁ’ থেকে কমেডির সম্রাট
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমায় আসরানি ছিলেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রিয় কমেডি অভিনেতার তকমা পান।

পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII) থেকে স্নাতক হয়ে ষাটের দশকের মাঝামাঝি তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। যদিও প্রথমে সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন, কিন্তু সত্তর ও আশির দশকে তাঁর কমেডির বিশেষ ধরন তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। বোকা কেরানি থেকে অদ্ভুত সহকারীর মতো বিভিন্ন মজাদার চরিত্রে তিনি দর্শকদের হাসিয়েছেন।

তাঁর স্মরণীয় চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম হলো রমেশ সিপ্পির ‘শোলে’ ছবির বিখ্যাত জেলার, যা হিটলারের একটি কৌতুকপূর্ণ অনুকরণ ছিল এবং আজও আইকনিক। এছাড়াও ‘চুপকে চুপকে’, ‘আজ কি তাজা খবর’ এবং ‘চল মুরারি হিরো বन्ने’-এর মতো কালজয়ী ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। হিন্দি ছাড়াও গুজরাটি এবং রাজস্থানি ছবিতেও তাঁর অবদান রয়েছে।

গোবর্ধন আসরানি পেছনে রেখে গেলেন হাসি ও ভোলার নয় এমন সব অভিনয়ের এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। ভারতীয় সিনেমার এই স্তম্ভটিকে দর্শকেরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবেন।