অমানবিক! মৃত বিমান সেবিকার কাছে ‘সিক লিভ’-এর নথি চাইল বিমান সংস্থা EVA Air! শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়ায়

তাইপে, ডেইলিহান্ট নিউজ ব্যুরো: তাইওয়ানের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইভিএ এয়ার (EVA Air) তাদের এক মৃত কর্মচারীর প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত ১০ অক্টোবর প্রয়াত হওয়া এক বিমান সেবিকার কাছে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিনই সংস্থাটির পক্ষ থেকে অসুস্থতাকালীন ছুটির প্রমাণপত্র (Sick Leave Documents) চেয়ে টেক্সট মেসেজ পাঠানো হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিমান সংস্থাটির ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত: অসুস্থতা উপেক্ষা!
জানা গেছে, সান (Sun) নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই বিমান সেবিকা গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিলান থেকে তাইওয়ানের তাইপেগামী একটি ফ্লাইটের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাইওয়ানের সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (CNA) রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযোগ উঠেছে যে তাঁর ম্যানেজার সেই সময় তাঁর দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেননি এবং বিমানটি মাটিতে থাকা সত্ত্বেও তাঁর জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন।

সান ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও, পরদিনই তাইওয়ানে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় ৮ অক্টোবর তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং এর দু’দিন পরই, অর্থাৎ ১০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর দিনেও কোম্পানির অসংবেদনশীলতা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে সানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন। শোকাহত পরিবার যখন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই সানের মোবাইল ফোনে ইভিএ এয়ারের এক প্রতিনিধির কাছ থেকে একটি টেক্সট মেসেজ আসে। সেখানে হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ের জন্য ছুটির নথি (Leave Documents) জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এই চরম অসংবেদনশীল বার্তাটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বাধ্য হয়ে সানের পরিবারকে কোম্পানিকে তাঁর মৃত্যু শংসাপত্রের কপি পাঠাতে হয়।

EVA Air-এর বক্তব্য ও তদন্তের আশ্বাস
তুমুল সমালোচনার মুখে বিবৃতি জারি করে ইভিএ এয়ার ক্ষমা চেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, “সঠিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন” এমন একজন কর্মচারীর ভুলের কারণেই মেসেজটি পাঠানো হয়েছে। সানের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিমান সংস্থাটি তাদের “আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ” করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইভিএ এয়ারের প্রেসিডেন্ট সান চিয়া-মিং বলেন, “এই ঘটনার পর আমাদের কোম্পানি অনেক সমালোচনা ও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। আমরা তা বিনম্রভাবে গ্রহণ করছি… মিস সানের চলে যাওয়া আমাদের হৃদয়ে চিরকালের জন্য বেদনা সৃষ্টি করেছে। আমরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল মনোভাবের সঙ্গে এই মৃত্যুর (কারণ) তদন্ত করব।”

কাজের চাপ ও কর্মীদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক
যদিও বিমানের উড্ডয়ন সংক্রান্ত রেকর্ড অনুযায়ী সান মাসে গড়ে ৭৫ ঘণ্টা ফ্লাইট ডিউটি করতেন, যা তাইওয়ানের আইনি সীমার মধ্যেই ছিল, তবুও এই ঘটনা বিমান সংস্থাটির কর্পোরেট সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাওয়ান ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ইউনিয়ন বিমান সংস্থাটির সহানুভূতি ও মানবিকতার অভাব তুলে ধরেছে এবং কেবিন ক্রুদের স্বাস্থ্য ও অধিকারের আরও ভালো সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

অতীতেও কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ করানোর জন্য ইভিএ এয়ারকে জরিমানা দিতে হয়েছে। এই বিমান সেবিকার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে তদন্ত চলছে।

আপনার মতে, কর্মীদের স্বাস্থ্যের প্রতি এমন উদাসীনতার জন্য কি কেবল একজন কর্মচারীই দায়ী, নাকি পুরো কোম্পানির সংস্কৃতিই দায়ী?