বিশেষ: কখন শুরু, কখন শেষ অমাবস্যা? জেনেনিন কালীপুজোর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট

হিন্দু ধর্মের পরম আরাধ্যা দেবী কালী বা কালিকা। দেবী আদিপরাশক্তি বা পার্বতীরই এক রূপ তিনি, যাকে সাধারণত মৃত্যু, সময় এবং পরিবর্তনের কর্তা বলে মানা হয়। তন্ত্র মতে তিনি দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী। প্রতি বছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে কালী পুজো বা শ্যামা পুজো অনুষ্ঠিত হয়। বাংলায় এই পুজো ‘দীপান্বিতা পুজো’ বা ‘দীপাবলি’ নামেও পরিচিত।
এবছর কালীপুজোর নির্ঘণ্ট, শুভ সময় এবং দেবীর নানা রূপভেদ নিচে আলোচনা করা হলো:
কালীপুজো ২০২৫-এর নির্ঘণ্ট
| বিবরণ | সময় |
| কালীপুজোর তারিখ | ২০ অক্টোবর (২ কার্তিক), সোমবার |
| অমাবস্যা তিথি শুরু | ২০ অক্টোবর, দুপুর ২/৫৫ মিনিট |
| অমাবস্যা তিথি শেষ | ২১ অক্টোবর, সন্ধ্যা ৪/২৫ মিনিট |
অর্থাৎ, তিথি অনুসারে ২০ অক্টোবর, সোমবারেই মা কালীর আরাধনা করা হবে। যদিও দীপাবলিতে অনেকেই লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করে থাকেন।
মা কালীর প্রণাম ও প্রার্থনা মন্ত্র
কালীপুজোর সময় দেবীর এই মন্ত্রগুলি উচ্চারণ করে সঠিক নিয়মে আরাধনা করলে ভক্তরা তাঁর আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন:
- প্রার্থনা মন্ত্র: ‘$এষ ধুপঃ ওঁ ক্রীং কাল্ল্যৈ নমঃ$‘
- প্রণাম মন্ত্র: ‘$ওঁ ক্রীং ক্রীং হৃং হৃং হিং হিং দক্ষিণে কালীকে ক্রীং ক্রীং ক্রীং হৃং হৃং হ্রীং হ্রীং হ্রীং স্বহা। ওঁ কালী কালী মহাকালী কালীকে পাপহারিণীধর্মার্থমোক্ষদে দেবী নারায়ণী নমোস্তুতে।$‘
দেবী কালীর বিভিন্ন রূপভেদ
তন্ত্র ও পুরাণ অনুসারে দেবী কালীর একাধিক রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভক্তরা বিভিন্ন রূপে তাঁর উপাসনা করেন:
- তোড়লতন্ত্র অনুসারে: দক্ষিণাকালী, কৃষ্ণকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, শ্রীকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী, শ্মশানকালী ও মহাকালী— এই নয় প্রকার কালীর পুজো প্রচলিত।
- তন্ত্র লোক ও তন্ত্রসার গ্রন্থদ্বয়ে: এখানে সৃষ্টিকালী, স্থিতিকালী, সংহারকালী, রক্তকালী, যমকালী, মৃত্যুকালী, রুদ্রকালী, পরমার্ককালী, মার্তণ্ডকালী, কালাগ্নিরুদ্রকালী, মহাকালী, মহাভৈরবঘোর ও চণ্ডকালী— সহ মোট ১৩টি রূপের উল্লেখ আছে।
- এছাড়াও বিভিন্ন মন্দিরে দেবী ব্রহ্মময়ী, আনন্দময়ী, ভবতারিণী ইত্যাদি নামেও পূজিত হন।
কেরালাতে লোকবিশ্বাস অনুসারে, শিবের তৃতীয় চক্ষু থেকে রাক্ষসদের বিনাশের জন্য তিনি আবির্ভূতা হয়েছিলেন, তাই সেখানে তিনি ভৈরবোপপত্নী মহাকালী নামে পরিচিত।