প্রথমেই বাজিমাত! আকাশ কাঁপিয়ে উড়ল ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ Tejas Mk1A, কাঁপছে চীন-পাকিস্তান

অবশেষে ইতিহাস! ভারতের প্রতিরক্ষা এবং বিমান প্রযুক্তির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় যুক্ত হলো। প্রথমবারের মতো আকাশ পথে ডানা মেলল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত অত্যাধুনিক ফাইটার জেট Tejas Mk1A। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে মহারাষ্ট্রের নাসিকে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর নাসিক ফ্যাসিলিটি থেকে এই যুদ্ধবিমানটি সফলভাবে উড়ান সম্পূর্ণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল চীন ও পাকিস্তানকে। তাদের সামরিক কৌশলে এর প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা শক্তির বড় বৃদ্ধি:

যুদ্ধবিমানটির উড়ানের পাশাপাশি এ দিন HAL-এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোডাকশন লাইনেরও উদ্বোধন করা হয়।

LCA (Light Combat Aircraft)-এর তৃতীয় প্রোডাকশন লাইন (Third Production Line)

HTT-40 ট্রেনার এয়ারক্রাফ্টের দ্বিতীয় প্রোডাকশন লাইন (Second Production Line)

এই প্রোডাকশন লাইনগুলি চালু হওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেল।

Tejas Mk1A কেন ‘ব্রহ্মাস্ত্র’?

এই ফাইটার জেটটি হলো ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণার এক চরম নিদর্শন। এটি হলো ৪.৫ জেনারেশন মাল্টি রোল ফাইটার জেট। এর বিশেষত্ব হলো এটি একইসঙ্গে তিনটি ফ্রন্টে আঘাত হানতে সক্ষম:

এয়ার ডিফেন্স (Air Defence): আকাশে শত্রুদের বিমান মোকাবিলা।

গ্রাউন্ড অ্যাটাক (Ground Attack): স্থলে অবস্থিত শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত।

মেরিটাইম অ্যাটাক (Maritime Attack): জলপথে থাকা শত্রুর জাহাজ বা সাবমেরিন ধ্বংস।

Tejas Mk1A হলো বর্তমান ভারতীয় বায়ুসেনা ব্যবহৃত Tejas Mk1-এর অ্যাডভান্স ভার্সন। এটি আরও আধুনিক সেন্সর, উন্নত রেডার এবং উন্নত যুদ্ধক্ষমতা সম্পন্ন।

বায়ুসেনার হাতে নতুন অস্ত্র:

দীর্ঘদিন ভারতীয় বায়ুসেনাকে সেবা দেওয়ার পর বিদায় নিয়েছে পুরোনো MiG-21 যুদ্ধবিমান। এই পরিস্থিতিতে বায়ুসেনার শূন্যস্থান পূরণে এবং একইসঙ্গে চীন-পাকিস্তানকে চাপে রাখতে Tejas Mk1A-কে ‘মোক্ষম চাল’ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধবিমানটি সামনে আনার আগে একাধিক কঠোর ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

Astra BVR (Beyond Visual Range) air-to-air missile

ASRAAM (Advanced Short Range Air-to-Air Missile)

laser-guided bombs

HAL সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিন তৈরিতে কিছুটা সময় লাগলেও ইতিমধ্যেই ১০টি এয়ারক্রাফ্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই বছরের মধ্যেই আরও ১২টি ইঞ্জিন পাওয়ার কথা রয়েছে। সবমিলিয়ে, আকাশপথে ভারতের এই নতুন উত্থান আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।